Apan Desh | আপন দেশ

মুমিনের বড় পরিচয় নামাজ

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৫, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুমিনের বড় পরিচয় নামাজ

ফাইল ছবি

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবন সময়ের স্রোতে প্রবাহিত হলেও একজন মুমিনের জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার নামাজের মাধ্যমে। সম্পদ, সম্মান কিংবা ক্ষমতা মানুষের প্রকৃত সফলতার মানদণ্ড নয়; বরং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মর্যাদাবান সে-ই, যে সময়মতো আন্তরিকতার সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। 

নামাজ এমন এক ইবাদত, যা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য দান করে, গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিশ্চিত করে। তাই ইসলামে ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সালাত বা নামাজকে।

কুরআনে প্রায় ৮০টিরও বেশি স্থানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নামাজ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে। (সূরা আন-নিসা, ৪:১০৩)। 

তিনি আরও বলেন, তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত আদায় করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো। (সূরা আল-বাকারা, ২:৪৩)। আল্লাহ আরও বলেন, আমার স্মরণের জন্য নামাজ কায়েম করো। (সূরা ত্ব-হা, ২০:১৪)। এছাড়া সূরা আল-বাকারা (২:১১০), সূরা হূদ (১১:১১৪), সূরা আল-ইসরা (১৭:৭৮), সূরা আল-মুমিনূন (২৩:১-২), সূরা আল-আনকাবূত (২৯:৪৫), সূরা আল-মাউন (১০৭:৪-৫)সহ বহু আয়াতে নামাজের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।

যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার সব পরিচয় মুছে যায়। মৃত্যু মানুষের সব পরিচয় মুছে দেয়। তখন শুধু ঈমান ও আমলে ছালেহ-এর পরিচয়টাই বাকি থাকে। আখেরাতে অন্য কোনো পরিচয় কাজে আসবে না। একমাত্র এ পরিচয়ই কাজে আসবে যে, সে মুসলমান, সে ঈমানদার। সুতরাং মুসলমান পরিচয়টা যেহেতু আমাদের সবসময় কাজে আসবে সেহেতু এ পরিচয় আমাদের থেকে কখনো যেন ছুটে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

আর দুনিয়াতেও যদি কেউ বাস্তব অর্থে সুখী হতে চায়, তাহলে তার জন্য এ পরিচয় অপরিহার্য।

পড়াশোনার লাইন ভিন্ন হলেও আমরা সকলেই কিন্তু এক। আমরা সকলেই মুসলমান। সারা বিশ্বের যেখানে যত মুসলমান আছে, আমরা সকলেই ভাই ভাই। আমাদের দেশ ও ভাষা ভিন্ন হতে পারে, শিক্ষাঙ্গন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মুসলিম পরিচয়ের সূত্রে আমরা এক, আমরা ভাই ভাই। মুসলিম পরিচয় সূত্রের এ যে বন্ধন এটা কিন্তু আমাদের থেকে কিংবা আমাদের বাপ-দাদাদের আমল থেকে শুরু হয়নি। এটা এসেছে সাহাবাদের যুগ থেকে। তারা পেয়েছেন নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। তিনি পেয়েছেন আল্লাহ তাআলা থেকে। তার আগে আরো অনেক নবী অতিবাহিত হয়েছেন।

হযরত আদম আ., হযরত নূহ আ., হযরত ইবরাহীম আ., হযরত ইদরীস আ., হযরত ইসহাক আ., হযরত ইয়াকুব আ. …তারা সকলেই মুমিন ছিলেন এবং এ পরিচয়ে পরিচিত ছিলেন। দুনিয়ায় মানবকুলের মধ্যে সবচেয়ে সেরা হলেন নবীগণ। এ সেরা গোষ্ঠীর সাথে যদি আমাদের মিল থাকে তাহলে আমরাও সেরা হয়ে যাব। সে মিল হল, তারা মুমিন ছিলেন, তারাও আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করতেন, আমরাও মুমিন, আমরাও আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করি। এ ঈমানের বাঁধনের মাধ্যমে আমরা তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গেলাম।

যদি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা এ পরিচয়টুকু ধরে রাখতে পারি তাহলে এর মাধ্যমে মানবকুলের সর্বশ্রেষ্ঠ গোষ্ঠীর সঙ্গে আমাদের একটা সম্পর্ক হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে আমাদের দুনিয়ার জীবনও শ্রেষ্ঠ হবে এবং মৃত্যুর পরও ইনশাআল্লাহ এর মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ জীবন লাভ করব।

এটা হল এক দিকের কথা। আরেক দিক থেকে দেখ, আমাদের কাছে বাবা-মায়ের পরিচয় সবচেয়ে বড়। আমরা কোন্ বংশের, আমার বাবা, আমার  দাদা, আমার নানা কোন্ বংশের, তাদের পরিচয়েই আমরা পরিচিত হই। একজন মানুষ যত বড় শিক্ষিতই হোক, সে তার বাবার পরিচয়েই বড় হয়, চাই তার বাবা কৃষকই হোক না। কোনো সন্তান যদি তার বাবার পরিচয়কে অস্বীকার করে তাহলে সে যত বড় শিক্ষিতই হোক না কেন সে কোনো আদর্শ সন্তান হতে পারে না। তো আমাদের আসল বাবা কে?

আরও পড়ুন<<>>হেঁটে মসজিদে যাওয়ার ফজিলত-মর্যাদা 

আমরা হলাম বনী আদম, আদম সন্তান। আমাদের আদি পিতা হলেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম। সকল মানবকুলের সূচনা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে দিয়ে। সুতরাং আমাদের আদি পিতা যেমন ছিলেন আমাদের তেমনি থাকা উচিত। তিনি তো এক আল্লাহ্র উপর বিশ্বাসী ছিলেন। জীবনভর তার ইবাদত করে গেছেন।

এবং এ পরিচয় নিয়েই তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তো আদর্শ সন্তান হল সে, যে বাবার এ পরিচয়টাকে ইয়াদ রাখে, স্মরণ রাখে। দুনিয়াতে এমন অনেক মানুষ আছে, যে এ পরিচয় বহন করেনি, সে হয়ত খ্রিস্টান, ইহুদী বা অন্য ধর্মাবলম্বী। তারা বাবার ঐ পরিচয়টাকে ধরে রাখেনি। তারা আদম আ.-এর সন্তান, কিন্তু আদম আ.-এর এ বৈশিষ্ট্য তারা ধরে রাখেনি।

তাই তারা বলতে পারবে না- তারা বাবার আদর্শ সন্তান। আদমের সন্তান বলতে হলে আদমের বৈশিষ্ট্যাবলি তাদের মধ্যে থাকতে হবে। এক আল্লাহ্র উপর বিশ্বাসী হতে হবে, যেভাবে হযরত আদম আ. এক আল্লাহ্র উপর বিশ্বাসী ছিলেন। সারা জীবন তারই ইবাদত করে গেছেন। যদি আমরা প্রকৃত আদম সন্তান হতে চাই তাহলে আদম আ., নূহ আ., হযরত ইবরাহীম আ., সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- তাদের পরিচয়টা আমাদের ভেতর রাখতে হবে।

আমাদের সম্পর্ক শুধু বাংলাদেশের এ কয়েক  কোটি মানুষের সাথেই না। আমাদের সম্পর্ক আরো আগ থেকে শুরু হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। আদম আলাইহিস সালাম থেকে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সকল নবীর সাথে আমাদের এ সম্পর্ক, এ ঈমানী সম্পর্ক। এ ঈমানী কালিমা- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। এ ঈমানী কালিমার মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ক তাদের সঙ্গে হচ্ছে, যারা মানবকূলের মধ্যে সবার  চেয়ে সেরা।

আমরা যে কোনো শিক্ষায় শিক্ষিত হই না কেন আমাদের এ পরিচয়টা সবচেয়ে বড়। এ পরিচয়টা যদি আমরা ধারণ করতে পারি, তাহলে দুনিয়ার জীবনের যখন অবসান ঘটবে তখন আখেরাতের জীবনে অনন্তকাল পর্যন্ত আমরাও ঐ শ্রেষ্ঠদের সাথে মিলিত হয়ে যাব, আমাদের ওই ঈমানী পরিচয়ের কারণে এবং ঈমানী পরিচয়ের হক আদায় করার কারণে।

এ হল এক কথা। যে কোনো পরিচয়ের একটা বৈশিষ্ট্য থাকে। আমাদের পরিচয় আমরা মুসলমান, আমরা মুমিন। এ পরিচয়েরও কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, কিছু দাবি আছে। একটা কাজ তো হল আমরা আল্লাহকে বিশ্বাস করব। অন্য কাউকে সিজদা করব না। অন্য কারো ইবাদত করব না। আল্লাহ্রই ইবাদত করব।

আমাদের এ সিজদা এটা আল্লাহ্র জন্য সুনির্ধিারিত। সারা জীবন এ শিক্ষা মনে রাখব। যে কেউ বোঝাক আমাকে; যিনি সৃষ্টি করেছেন, যিনি আমাকে শ্রেষ্ঠ মাখলুক বানিয়েছেন, যিনি আমাকে সুন্দর করে বানিয়েছেন, আমার সিজদার হক একমাত্র তার। আল্লাহ্ তাআলার প্রতি আমাদের এ বিশ্বাস, আমাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার এ হক।

নামাজ মানুষকে কী শিক্ষা দেয় 
 নামাজ কেবল কিছু শারীরিক আন্দোলনের নাম নয়; এটি মানুষের চরিত্র গঠন করে। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। (সূরা আল-আনকাবূত, ২৯:৪৫)। আরও বলেন, সফলকাম হয়েছে সে মুমিনরা, যারা তাদের নামাজে বিনয়ী। (সূরা আল-মুমিনূন, ২৩:১-২)।

নামাজ আদায়ের সংক্ষিপ্ত নিয়ম 
নামাজ শুরু হয় অন্তরের নিয়ত দ্বারা। এরপর তাকবীরে তাহরিমা, কিয়াম, সূরা ফাতিহা ও কুরআন তিলাওয়াত, রুকু, সিজদা, তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া পড়ে সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করা হয়। নামাজে খুশু-খুজু, মনোযোগ ও একনিষ্ঠতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়