Apan Desh | আপন দেশ

বিপিটিএলের পরিচালক গ্রেফতার, দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২৩:১১, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিপিটিএলের পরিচালক গ্রেফতার, দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

গ্রেফতারকৃত মেরাজুল ইসলাম। ছবি আপন দেশ

বাংলাদেশ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেডের (বিপিটিএল) পরিচালক মো. মেরাজুল ইসলামকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রপাতি ও মালামাল লুট এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ ১ কোটি ৪১ লাখ ৯১ হাজার ১৬৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা মডেল টাউনের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের শাহবাগ আমলী অঞ্চলের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে এ অভিযান চালায় পুলিশ।

আদালতে দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিপিটিএলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এসহাক মো. আবুল খায়েরের ৪৫ শতাংশ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ রিয়াজুল করিমের ৪৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। অভিযুক্ত মেরাজুল ইসলামের শেয়ার ছিল ১০ শতাংশ।

প্রাতিষ্ঠানিক কাজে চেয়ারম্যান ও এমডি দেশ-বিদেশে ব্যস্ত থাকায় মৌখিকভাবে মেরাজুলকে হিসাব-নিকাশ ও দৈনন্দিন তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সভা ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে জনবল নিয়োগ ও অর্থ ব্যয় করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের শতভাগ মালিকানা কুক্ষিগত করতে মেরাজুল সন্ত্রাসীদের ভাড়া করেন। কারখানার নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভারী যন্ত্রপাতি ও সাবস্টেশনের যন্ত্রাংশ একাধিক ট্রাকে করে রাতে অন্যত্র সরিয়ে নেয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও যন্ত্রাংশ কেনার জন্য রাখা তহবিল থেকে ৭৫ লাখ ৯১ হাজার ৯১৫ টাকা। কারখানা থেকে সরিয়ে নেয়া কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির বাজারমূল্য ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৫০ টাকা। সব মিলিয়ে আত্মসাৎ ও চুরির অভিযোগে অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৪১ লাখ ৯১ হাজার ১৬৫ টাকা।

এজাহারে বলা হয়, অর্থ ও মালামাল লোপাটের বিষয়টি জানাজানি হলে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগের ‘মুসলিম বিরিয়ানি’ রেস্তোরাঁয় আপস-মীমাংসার বৈঠক হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের হিসাব উপস্থাপন করা হলে মেরাজুল তা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান এবং হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী এমডি শাহবাগ থানায় অভিযোগ করতে গেলে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়। পরে সিএমএম আদালতে নালিশি অভিযোগ দাখিল করা হলে আদালত তা আমলে নিয়ে ১৫ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসিলা মডেল টাউনের ৫ নম্বর রোডের ৫০ নম্বর ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মেরাজুলকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। তিনি পিরোজপুরের পাড়েরহাটের বাসিন্দা। গ্রেফতার আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে- জানায় পুলিশ।

আপন দেশ/কেএম/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়