Apan Desh | আপন দেশ

চট্টগ্রামে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:২১, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

ফাইল ছবি, আপন দেশ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জাল ভাউচার তৈরি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এসব কাজে জাড়িত থাকার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এ মামলাটি করেন সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন।

মামলার আসামিরা হলেন করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন নয়ন, সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার ও তাহেরা বেগম এবং সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবু তাহের (মাস্টার), মো. শহীদ উল্লাহ, মো. বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মো. আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়। এসব প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পায় দুদক। অনুসন্ধানে প্রকল্পগুলোর অধিকাংশ ভাউচার জাল বলে প্রতীয়মান হয়।

এজাহারে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। ভাউচারে উল্লেখ করা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা দুদকের অনুসন্ধানকারীদের জানিয়েছেন, ভাউচারে থাকা লেখা ও স্বাক্ষর তাদের নয়। 

আরও পড়ুন<<>>সাবেক এসবি প্রধান মনিরুলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

এ ছাড়া প্রকল্প কমিটির সভার কার্যবিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাইরে অন্য সদস্যদের অধিকাংশ স্বাক্ষরও জাল বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ১ শতাংশ করের অর্থে নেয়া ৫৫টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। তাদের পারস্পরিক যোগসাজশে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা ও নীতিমালা লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং জাল ভাউচার তৈরি ও ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে মামলাটি করা হয়েছে।

দুদক জানায়, অনুসন্ধানের সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বক্তব্যও নেয়া হয়। তার দাবি, চেয়ারম্যানের চাপে দোকান থেকে সংগ্রহ করা খালি ভাউচার তিনি পূরণ করেছিলেন। তবে এ ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে তদন্তকালে খতিয়ে দেখা হবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়