ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্তে সব ধরনের জ্বালানির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু বাংলাদেশে নয় পুরো বিশ্বেই চলছে এ জ্বালানী সংকট। যার কারণে প্রায় সব দেশেই বাড়ছে জ্বালানী তেলের দাম।
রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে দেশে জ্বালানীর নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী দেশে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছে। কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে। পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা করা হয়েছে।
এর আগে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সব ধরনের জ্বালানির দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন <<>> ‘ইরান যুদ্ধ চায় না, কেবল আত্মরক্ষা করছি’
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে অস্থিরতা এ সংকট চলছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে বেড়েছে। বাংলাদেশেও এবার সে প্রভাব পড়ল।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় পার্থক্য দেখা যায়। গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৮৭ টাকা এবং ইরানে প্রায় ৩ দশমিক ৫ টাকা। কুয়েতে ৪১ দশমিক ৫৯ টাকা, কাতারে ৬৮ দশমিক ৯৮ টাকা, সৌদি আরবে ৭৬ দশমিক ১২ টাকা এবং ওমানে ৭৬ দশমিক ২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বাহরাইনে ৭৬ দশমিক ৩১ টাকা, ইরাকে ৭৯ দশমিক ৫৬ টাকা, ভুটানে ৮২ দশমিক ৮৫ টাকা, রাশিয়ায় ১০১ দশমিক ৪৮ টাকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০৯ দশমিক ৪৯ টাকা দরে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। আফগানিস্তানে ১১৬ দশমিক ৩১ টাকা এবং মালয়েশিয়ায় ১১৭ দশমিক ২৪ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
ভারতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১৩২ দশমিক ৭৩ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রে ১৩৯ দশমিক ৯৯ টাকা। চীনে ১৬৩ দশমিক ৫৯ টাকা। পাকিস্তানে প্রায় ২০০ টাকা। আর যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৪১ দশমিক ২৯ টাকা দরে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে।
সাধারণত তেল উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক দেশগুলোতে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য মজুত থাকা সত্ত্বেও সেখানে দাম তুলনামূলক বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে বা কমতে পারে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































