ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মোহনা টিভিকে কেন্দ্র করে দখলচেষ্টার অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির উসকানিতে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে। দফায় দফায় চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে গত ১২ এপ্রিল মালিকদের পক্ষে পল্লবী থানায় জিডি করা হয়েছে (জিডি নং ১০১১)। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পায় এবং বহিরাগতদের বের করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় তদন্ত চলছে।
জানা গেছে, সাবেকমন্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ মজুমদারের এক সময়ের পার্টনার ছিলেন আতাহার উদ্দিন ও আজমত। পরে তারা পার্টনারশিপের টাকা তুলে নিয়ে নিয়েছেন।
বর্তমানে কামাল আহমেদ মজুমদার ও তার ছেলে প্রতিষ্ঠানের এমডি শাহেদ আহমেদ মজুমদার কারাবন্দি থাকায়, সেই সুযোগে টেলিভিশনটি দখলের পাঁয়তারা করছে আতাহার উদ্দিন চক্র। তারা প্রতিষ্ঠানের এক সুযোগ সন্ধানী কর্মকর্তা তছলিম চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি দখলের অপচেষ্টা করছে।
বিষয়টি জানতে পেরে মালিকপক্ষ উচ্চ আদালতে রিট করেন। যার নম্বর ১১৮/২৬। উচ্চ আদালত ভুয়া কাগজপত্রের ওপর স্ট্রে আদেশ দেন। তারপরও চক্রটি প্রতিষ্ঠানটি দখলে মরিয়া। তারা বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে গত ১২ এপ্রিল মোহনা টিভি দখলের অপচেষ্টা করে।
মোহনায় কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পুলিশের সহায়তায় তাদের দখলের চেষ্টা ব্যর্থ করেন। এরপরও তছলিম চৌধুরীরা বসে নেই।
মিডিয়ার লোকরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; বরং এটি দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ওপর এভাবে দখলচেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলকে কেন্দ্র করে একটি অস্বচ্ছ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে ব্যবহার করে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































