সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ চাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি সাবেক এমপি ফজলে করিমের স্ত্রীর কাছে কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেছেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের একজন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার। যিনি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার এক আসামি ফজলে করিম চৌধুরীকে খালাস করিয়ে দেয়ার আশ্বাসে তার স্ত্রীর কাছে এক কোটি টাকা ঘুষ চেয়েছেন। তার সে ঘুষ চাওয়ার অডিওটি মিডিয়ার মাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর আমরা একটা ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করি। ইতোমধ্যে সে অডিও রেকর্ডের সত্যতা পেয়েছি। এখানে তাদের দুইজনেরই কথা আছে।
তিনি বলেন, কথোপকথনের সত্যতা পেলেও এর বাহিরে তাদের কোনো লেনদেন হয়েছে কি না, সে বিষয়টি এখনো খতিয়ে দেখছি। এর আগে এ বিষয়টা যখন আমাদের সামনে আসে তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি। এরপরই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ করলেও এ বিষয়টি আমরা তদন্ত করে যাচ্ছি। খুব দ্রুতই আমরা তদন্ত রিপোর্টটি প্রকাশ করব এবং আসল সত্যটা তুলে ধরব।
আরও পড়ুন<<>>এবার গাড়িও চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
এর আগে, গত ৯ মার্চ রাতে বেসরকারি একটি টেলিভিশন ফজলে করিমের স্ত্রী ও প্রসিকিউটর সাইমুমের এ অডিও প্রকাশ করে। অডিওর কথোপকথনে কিস্তিতে টাকা পরিশোধের আলোচনার পাশাপাশি, মামলা থেকে অব্যাহতির নিশ্চয়তা হিসেবে বিএনপির এক সংসদ সদস্য এবং এক প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে তদবির করানোর পরামর্শ দেয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে রিজনেবল হিসেবে তুলে ধরে অডিওতে তার সমর্থন আদায়ে ওই রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ কাজে লাগবে বলেও অডিওতে শোনা যায়।
সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে গ্রেফতারের তথ্য দেয় পুলিশ।
প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ৯ জন নিহত এবং ৪৫৯ জন আহত হওয়ার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
অভিযোগ অস্বীকার করে পরের দিনই নিজের ফেসবুকে সাইমুম রেজা তালুকদার পোস্ট দেন। তার দাবি, এটি একটি মহলের অপপ্রচার এবং অডিওগুলো মিথ্যা।
নিজের দাবির সপক্ষে আইনি যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর ঘটনায় একটি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগটি এরকম যে একজন আসামিকে খালাস করিয়ে দেয়ার বিনিময়ে নারীর সঙ্গে কথোপকথনের দুইটি অডিও ক্লিপ, যেখানে আমি নাকি ১ কোটি টাকা দাবি করেছি, ১০ লাখ টাকা অগ্রিম চেয়েছি। এ দাবি ভিত্তিহীন ও অসত্য। এমন কিছু কখনো ঘটেনি, আমিও কারও থেকে উপরোক্ত কিছু চাইনি।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































