Apan Desh | আপন দেশ

বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগের দুই নেত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:২৫, ২০ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ১৮:২৭, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগের দুই নেত্রী

মাধবী মারমা-সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএনপি ঘোষিত মনোনীতদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর ও আওয়ামী আমলের এপিপি অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা। বিএনপির ঘোষিত চূড়ান্ত তালিকায় সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর ২০ নম্বরে ও অ্যাডভোকেট মাধবী মারমার ৩৪ অবস্থানে রয়েছেন। 

বান্দরবান জেলা বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা এক সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) মামলায় সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরের (এপিপি) দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় কার্যক্রমে তেমন সক্রিয় না থাকার পাশাপাশি দলীয় পদবীও ছিল না তার। অন্যদিকে অন্য প্রার্থীরা দলের দুঃসময়ে যেমন দলকে সময় দিয়েছিলেন নির্যাতিতও হয়েছিলেন। মনোনয়নে ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় দলীয় একাংশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন<<>>সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেলেন জাতীয় নির্বাচনে হারা সানসিলা

এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনথি ইয়া লেখেন, আওয়ামী লীগের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মাধবী মারমা বিএনপির মহিলা এমপি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন৷ অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত আওয়ামী সরকারের দলীয় এপিপি ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আওয়ামী সরকার কতৃক মনোনীত নোটারী পাবলিকের আইনজীবী ছিলেন। আবারও অভিনন্দন আপু। 

বান্দরবান জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক মুজিবুর রশিদ জানান, দলীয় ত্যাগী নেত্রীদের মধ্যে জেলা পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনাকে সমর্থন করেছিলেন। মাধবী মারমার দলীয় পদ-পদবি বা সদস্য না থাকলেও বিভিন্ন মিটিং বা মিছিলে থাকতেন এবং দলের পক্ষে কাজ করেতেন। তবে দলীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারকদের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এর বাইরে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

অন্যদিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর) ছিলেন গোপালঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। 

বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, মামলা-হামলা সহ্য করেছেন। তাদের মূল্যায়ন না করে অন্য দল থেকে আসা একজন পদধারী নেত্রীকে মনোনয়ন দেয়ায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেন, দলে নতুন কেউ আসতেই পারেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অন্য দলের সক্রিয় রাজনীতিতে থেকে হঠাৎ এসে মনোনয়ন পাওয়া দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতি অবিচার। যারা বছরের পর বছর নানা প্রতিকূলতা সহ্য,দুঃসময়ে দলের পাশে থেকে সংগ্রাম করেছেন। তাদের অবদান উপেক্ষা করা হলে, দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি হবে। তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঘোষিত ৩৬ সদস্যের চূড়ান্ত তালিকায় এ দুজনের নাম প্রকাশিত হয়, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় ঘোষণার পর থেকেই তাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে অতীত সম্পৃক্ততা থাকা সত্ত্বেও বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় বিষয়টি কৌশলগত সিদ্ধান্ত কি না-তা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ।

এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। মনোনীতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মনোনয়ন ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দলীয় প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় নতুন বাস্তবতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হতে পারে।

৩৬ জনের তালিকায় আছেন : তালিকায় আছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোছাম্মৎ ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ১২ মে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে হিসাবে, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি ও স্বতন্ত্ররা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পাবে।

আপন দেশ/এসআর
 

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়