ছবি: আপন দেশ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে যমুনা পরিবহনের একটি বাসকে ঘিরে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। অভিযোগ ওঠার পর নাটকীয়ভাবে তা ‘মিথ্যা’ বলে স্বীকার করেছেন অভিযোগকারী নারী। তবে পুরো ঘটনাকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নতুন সন্দেহ ও প্রশ্ন।
বুধবার (২৫ মার্চ) ঢাকা থেকে ফেরার পথে আল্পনা আক্তার নামে এক নারী অভিযোগ তোলেন। তার দাবি ছিল, বাসের সুপারভাইজারসহ ৫-৬ জন তার শিশুসন্তানকে জিম্মি করে তাকে গণধর্ষণ করেছে। তিনি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কর্নঝোড়া এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে। বিক্ষুব্ধ জনতা শেরপুরের আখের বাজার এলাকায় বাসটি আটকে দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি জব্দ করে।
তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। আল্পনা আক্তার সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন, ভাড়াকে কেন্দ্র করে সুপারভাইজারের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। সে রাগ থেকেই তিনি ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন।
এ আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন ঘিরে তৈরি হয়েছে সন্দেহ। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বাস মালিকপক্ষ ও অভিযুক্তদের স্বজনদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে গোপন সমঝোতা হয়েছে। এ সমঝোতার কারণেই তিনি অভিযোগ থেকে সরে এসেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন <<>> টাঙ্গাইলে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, এমন সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যক্তিগত বিরোধ বা অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার পেতে বাধার মুখে পড়তে পারেন।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ বাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে ঘটনাস্থল বকশীগঞ্জ এলাকায় হওয়ায় পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
এদিকে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































