ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের মেজাজ কখনো ভালো, কখনো খারাপ—এটি স্বাভাবিক। তবে খিটখিটে ভাব, অস্থিরতা বা অকারণ দুশ্চিন্তাকে অনেক সময় ‘খারাপ দিন’ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শিশুর মানসিক অবস্থা ও আচরণের সঙ্গে তার খাদ্যাভ্যাসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। শিশুর প্লেটে কী আছে, সেটিই অনেক সময় তার মেজাজ ও মনোযোগকে প্রভাবিত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে শক্তিশালী একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, যাকে গাট-ব্রেইন কানেকশন বলা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোন সেরোটোনিনের প্রায় ৯০ শতাংশই তৈরি হয় অন্ত্রে। ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য মেজাজ, ঘুম ও মনোযোগে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন <<>> মেহেদির রং গাঢ় করার সহজ উপায়
বর্তমানে শিশুদের খাবারে প্যাকেটজাত ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ বাড়ছে। এসব খাবারে কৃত্রিম রং, ফ্লেভার ও অতিরিক্ত চিনি থাকে, পুষ্টিগুণ থাকে কম।
সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্যমতে, এসব খাবার বেশি খেলে শিশুদের অস্থিরতা, খিটখিটে ভাব ও মনোযোগের সমস্যা বাড়তে পারে।
মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশের জন্য সুষম পুষ্টি জরুরি। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি হলে তা আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও চিন্তাশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
শিশুর খাদ্যাভ্যাসে কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে—
প্রাকৃতিক খাবার বাড়ান: ফল, সবজি, ডাল ও শস্যজাত খাবার পুষ্টি জোগায়।
প্রোটিন নিশ্চিত করুন: ডিম, মাছ, ডাল ও বাদাম শক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার দিন: মাছ, আখরোট ও বীজজাত খাবার মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।
ফারমেন্টেড খাবার যোগ করুন: দইসহ এ ধরনের খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মানসিক সুস্থতা শুধু পড়াশোনা বা ঘুমের ওপর নির্ভর করে না। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও এতে বড় ভূমিকা রাখে। তাই খাবারে ছোট পরিবর্তনই শিশুকে আরও শান্ত, মনোযোগী ও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।
আপন দেশ/এসএস




































