ফাইল ছবি
আজ ৬ এপ্রিল, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ক্রীড়া দিবস। ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ৬ এপ্রিলকে ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রীড়া দিবস উদযাপন শুরু হয়। বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এদিন সকাল ১০টায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হক।
এছাড়া, একই সময়ে আলোচনা সভাটি ভার্চুয়ালি সারা দেশে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য সম্প্রচারিত হবে, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট দিবসের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও জানতে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
৬ এপ্রিল তারিখটি বিশেষভাবে স্মরণীয়, কারণ ১৮৯৬ সালের এ দিনেই গ্রীসের অ্যাথেন্সে আধুনিক যুগের প্রথম অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধন হয়েছিল। এটি ক্রীড়ার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত।
২০১৫ সালে জাতিসংঘ ক্রীড়াকে টেকসই উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং এটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDGs) অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র একমত হয়ে "টেকসই উন্নয়নের সহায়তা হিসেবে খেলাধুলা" শীর্ষক একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। এ প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয় যে, খেলাধুলা শান্তি, উন্নয়ন, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার এবং বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন<<>>বিসিবির তদন্ত কমিটিকে পাত্তা দিল না আসিফ মাহমুদ
২০২৪ সালের ২৫ জুলাই প্যারিস অলিম্পিক গেমসের প্রাক্কালে ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং আইওসি সভাপতি টমাস বাখের উদ্যোগে একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল সবচেয়ে বড় “স্পোর্ট ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট” (#Sport4SD) সম্মেলন, যেখানে বহু সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (SDGs) খেলাধুলার অবদানকে ত্বরান্বিত করার জন্য একটি অভূতপূর্ব আন্দোলন শুরু করে।
এছাড়া, ২০২৫ সালের জুনে সুইজারল্যান্ডের লোজানে অনুষ্ঠিত “অলিম্পিজম ৩৬৫ সামিট: স্পোর্ট ফর এ বেটার ওয়ার্ল্ড” সম্মেলনে অলিম্পিক মুভমেন্ট, জাতিসংঘ, উন্নয়ন ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ এবং নিরাপদ ক্রীড়া সম্প্রদায়ের ১০০টি সংস্থা একত্রিত হয়েছিল। এ সম্মেলনে ক্রীড়ার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের জন্য সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ রেজোলিউশন-৬৭/২৬৬ অনুযায়ী, ৬ এপ্রিলকে “উন্নয়ন ও শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘ এ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রসমূহ, জাতিসংঘের সিস্টেম, ক্রীড়া সংস্থাগুলি, বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় দিবসটি উদযাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানায়, যাতে ক্রীড়ার মাধ্যমে উন্নয়ন এবং শান্তির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস কেবল একটি উৎসব নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, যেখানে খেলাধুলার মাধ্যমে আমরা শান্তি, সহযোগিতা এবং মানবাধিকার রক্ষায় একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারি। ৬ এপ্রিলের এ দিনটি বিশ্বব্যাপী ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য একটি উৎসাহের দিন, যা আরও উন্নয়নশীল, শান্তিপূর্ণ এবং সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে অবদান রাখে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































