এআই জেনারেট ছবি। লোগো ইফাদ।
এককালের অভিজাত ব্যবসায়ী গ্রুপ ইফাদ চার দশক পরে আর্থিক সংকটে পড়ে দেউলিয়ার পথে হাঁটছে। অটোমোবাইল ব্যবসা দিয়ে ১৯৮৫ সালে পথচলা শুরু হয়েছিল। গ্রুপটি টানা তিন বছর ধরে লোকসান গুনছে। এ সময়ে দেশে অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করলেও অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে ইফাদ গ্রুপ।
চার দশকের ব্যবসায়িক পথচলায় প্রতিষ্ঠানটির এ সংকটের নেপথ্যে কী? আপন দেশ-এর ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ পড়ুন প্রথম পর্ব।
শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ ঘণিষ্ঠ এ ব্যবসায়ী গ্রুপ সরকারের নানা সুবিধা পেয়ে ব্যবসা করে। অর্ধশত কোটি টাকার নিট মুনাফা ঘরে তোলে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, পারিবারিক জটিলতা ও অর্থ সরিয়ে নেয়ার প্রবণতা শুরু করায় প্রতিষ্ঠানটি এখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অটোমোবাইল দিয়ে যাত্রা শুরু করা ইফাদ গ্রুপের এখন ব্যবসা রয়েছে ভোগ্য পণ্য, মাল্টি প্রডাক্টস, হোম কেয়ার, অটো সার্ভিস, প্রযুক্তি ও নির্মাণ খাতের যন্ত্রপাতি শিল্পে। অন্যান্য খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করলেও গ্রুপটির মূল ও সবচেয়ে বড় ব্যবসা হচ্ছে ভারতীয় বাস আমদানি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা।
আরও পড়ুন<> রূপালী লাইফের দুর্নীতি: ২৮ কোটি ভুয়া আয়, ৩২ কোটি গোপন ব্যয়
গ্রুপটির বড় ক্রেতা হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। বিআরটিসির বহরসহ সারা দেশে টাটা, অশোক লেল্যান্ডের মতো বিভিন্ন ভারতীয় কোম্পানির যেসকল বাস সরকারি পরিবহন পুল ও বিভিন্ন বাহিনীর হয়ে চলাচল করে তার বেশিরভাগ সরবরাহকারি হচ্ছে ইফাদ গ্রুপ।
এক সময়ে সরকারের জন্য ভারতীয় এ বাস সরবরাহ করেই ইফাদ গ্রুপ ফুলে ফেঁপে বড় হয়ে উঠে। এর নেপথ্যে ছিল সরকারি দরপত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকা ও আওয়ামী লীগ সরকারের আর্শিবাদ। তাতেই আর্থিক খাতে অলিগার্ক হয়ে উঠে এ প্রতিষ্ঠানও।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে অলিগার্করাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে শুরু করে। ইফাদ গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের সবাই দেশ না ছাড়লেও সরকার পতনের প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠছে আর্থিক প্রতিবেদনে। পারিবারিক নেতৃত্বের অভ্যন্তরীন কোন্দলে তিন বছর আগ থেকেই ভুগতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
কেমন চলছে ইফাদ গ্রুপ:
প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পরে ২০১৫ শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত হয় ইফাদ অটোস। আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, সবশেষ ৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকার নিট মুনাফা করে ২০২১-২২ অর্থবছরে। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান গুনছে।
টানা তিন বছরের ধারাবাহিকতায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে লোকসান দাঁড়ায় ৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগের বছের তা ছিল দ্বিগুনের বেশি। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ইফাদ গ্রুপের লোকসান হয় ১৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি। আর ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে লোকসান দেয় ১৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। লোকসানি প্রতিষ্ঠানটি এখন রিজার্ভ ভেঙে বিনিয়োগকারিদের লভ্যাংশ দিতে শুরু করেছে। মূলত প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে দুঃসময়ে রিজার্ভের অর্থে হাত দেয় কোম্পানি। বর্তমানে রিজার্ভে থাকা ৫৮৬ কোটি ৬১ লাখ টাকার কি অবস্থায় আছে তা নিয়ে কোনো কথা বলছে না কোম্পানি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী মিলে সবশেষ প্রতিষ্ঠানটির ঋণ দাঁড়িয়ে ৫২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন বলছে, ঋণের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি ঋণ রয়েছে ৬৬৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাকি অর্থ ডজন খানেক ব্যাংকের কাছ থেকে লিজ ও বন্ড আকারে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব ঋণ এখন দায় হিসেবে দেখিয়ে আসছে ইফাদ গ্রুপ।
আরও পড়ুন<> ন্যাশনাল লাইফের তদন্তে দুদক: ২১শ’ অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন, ৭১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ-পাচার
তথ্য অনুযায়ী, বন্ড বাবদ দায় রয়েছে ৩০০ কোটি টাকার। এছাড়াও ন্যাশনাল ব্যাংকের ১৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, ওয়ান ব্যাংকের ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, প্রাইম ব্যাংকের ৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ২৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার। লিজ বাবদ দায় রয়েছে ২ হাজার ১৩ কোটি টাকার। যে সুদ হারে ঋণ নিয়েছিল, এখন বন্ড ও ঋণ সুদহার বেড়ে যাওয়া মরার উপর খাঁড়ার ঘা-তে পরিণত হয়েছে।
লোকসানে থাকার মধ্যেও মূল প্রতিষ্ঠান থেকে ১১৯ কোটি সরিয়ে নিয়ে নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ শুরু করেছে ইফাদ গ্রুপ। চলতি অর্থবছরের গত সেপ্টম্বরে প্রকাশিত সবশেষ অনীরিক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা দিয়ে খুলেছে নতুন প্রতিষ্ঠান ইফাদ মাল্টি প্রডাক্টস। এর চেয়ারম্যানও ইফতেখার আহমেদ টিপু। গ্রুপ ভাইস-চেয়ারম্যান তাসকিন আহমেদও রয়েছেন, তিনি বর্তমানে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি।
বিক্রি বাড়লেও মুনাফা বাড়ছে না সেভাবে:
পণ্য হিসেবে বাস ব্যবসায় বিক্রি বাড়ছে, কিন্তু সে বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে না মুনাফা। ব্যবসা সচল রাখতে ঋণ বাড়িয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য গত কয়েক বছরে সুদের বোঝা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ গুণ।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৮৯২ কোটি ১৬ লাখ টাকার বিক্রি হলেও নিট লোকসান দেয় ৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এ সময়ে কোম্পানির মোট দায় ৩ হাজার ১৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় উঠে। এর বিপরীতে নিজস্ব পুঁজি রয়েছে মাত্র ৯৫৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক টাকা নিজস্ব মূলধনের বিপরীতে কোম্পানির দায় ৩ দশমিক ৩২ টাকা।
হালনাগাদ অনীরিক্ষীত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে অর্থাৎ সবশেষ গত মার্চে দায় আরও বেড়ে হয় তিন হাজার ১৮৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে নিজস্ব মূলধন দাঁড়িয়েছে ৯৬০ কোটি ১১ লাখ টাকা। এ সময়ে সুদ পরিশোধ করে ৪৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকার।
আরও পড়ুন<> বিশেষ প্রতিবেদন ঋণশোধে বিদেশি মুদ্রা কোথায় পাবে মেঘনা গ্রুপ?
এখন ব্যাংকের সব দায় পরিশোধে ইফাদ গ্রুপকে বিক্রি করলেও ব্যাংক ঋণের তিন ভাগের একভাগ শোধ হবে না। তথ্য বলছে, পাঁচ বছর আগেও এরকম করুণ পরিস্থিতিতে ছিল না গ্রুপটির আর্থিক চিত্র। বছর পাচেক আগে সুদ কভারেজ অনুপাত ছিল ৩ দশমিক ১৬। অর্থাৎ সুদ ব্যয়ের তুলনায় আয় ছিল তিন গুণের বেশি। পরবর্তী বছরে তা কমে চার গুণ, ২ দশমিক ৬৩, ১ দশমিক শূন্য ৯ এবং সর্বশেষ হয় শূন্য দশমিক ৯৬।
এর মানে হলো, প্রতি বছর যে পরিমাণ ঋণ সুদ পরিশোধ করতে হয় তাও আসছে না ব্যবসার আয় থেকে। এ কারণে সুদ পরিশোধ সক্ষমতা বা সুদ কভারেজ অনুপাত নেমে এসেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশে। অর্থাৎ মূল ব্যবসা থেকে আসা আয় থেকে সুদের পুরোটা পরিশোধ করা যাচ্ছে না। এতে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে চলে গেছে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্য ব্যাংকে। দায় পরিশোধে প্রতি প্রান্তিকে সব ব্যাংকের পাওনার পুরো কিস্তির অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না।
বাড়ছে বিক্রি খরচ:
২০২১-২২ সালে সর্বোচ্চ ৯৪৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বিক্রির পর ২০২৩-২৪ সালে তা নেমে যায় ৭৪৮ কোটি ১৫ লাখ টাকায়। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৯ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হয় ৮৯২ কোটি ১৬ লাখ টাকায়। কিন্তু বিক্রি কিছুটা বাড়লেও মুনাফায় ফিরতে পারেনি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পণ্য বিক্রির খরচ ছিল ৬৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ৭৮০ কোটি ১১ লাখ টাকায়। এক বছরে খরচ বাড়ে ১৪১ কোটি ৪৯ কোটি টাকা বা প্রায় ২২ শতাংশ। অর্থাৎ বিক্রি ১৯ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়লেও বিক্রি-সংশ্লিষ্ট খরচ তার চেয়ে বেড়ে হয় প্রায় ২২ শতাংশ। ফলে অতিরিক্ত বিক্রির বড় অংশের চাপ পড়েছে অর্থ ব্যবস্থায়।
সুদের বোঝার চাপে ইফাদ:
ইফাদ অটোসের সুদ ব্যয় পাঁচ বছরের মধ্যে ৩২ কোটি ৩২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ কোটি ৪৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ সালে সাময়িকভাবে তা ২৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় নেমেছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সুদ ব্যয় দাঁড়ায় ৩০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ৪২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ও সবশেষ আর্থিক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইফাদ গ্রুপ সুদ পরিশোধ করে ৫০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত সুদ পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ। একই সঙ্গে মোট ব্যয়ের মধ্যে সুদ বাবদ খরচ ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
সুদ ব্যয় বাড়লেও কোম্পানির পরিচালন মুনাফা কমে আসছে। ২০২১-২২ সালের ১০৭ কোটির বেশি থেকে পরবর্তী সময়ে ৫০ কোটির নিচে নেমেছে। এখন পরিচালন মুনাফার সমান হয়ে গেছে সুদ ব্যয়। পরিচালন মুনাফা কমে আসা মানেই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার পরিসর দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচেছ। এভাবে চললে চলতি অর্থবছর শেষে গ্রুপটি সুদ পরিশোধ করার মতো কোনো অর্থই থাকবে না।
যা বলছে ইফাদ গ্রুপ:
এ বিষয়ে জানতে ১৭ সেপ্টেম্বর পাঠানো প্রশ্নের লিখিত উত্তর দিয়ে ইফাদ অটোস পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ আপনদেশ’কে বলেন, ‘কাঁচামাল ও আমদানিসংশ্লিষ্ট ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারজনিত অতিরিক্ত খরচ এবং লজিস্টিকস, জ্বালানি ও অন্যান্য উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মুনাফার মার্জিনে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যয় অপ্টিমাইজেশন, ক্রয়প্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিচালন দক্ষতা উন্নয়ন এবং যথাযথ মূল্য নির্ধারণে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’
ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরবরাহকারীদের সঙ্গে দর-কষাকষি, মজুত ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদনজনিত অপচয় কমানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সুদ কভারেজ অনুপাত কমে যাওয়াকে উদ্বেগ হিসেবে বর্ণনা করে তানভীর আহমেদ বলেন. ‘আর্থিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইফাদ গ্রুপ। আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে সুদ কভারেজ অনুপাত প্রথম ধাপে ১ গুণের ওপরে নেয়ার লক্ষ্য রয়েছে।’
ইফাদ অটোস অশোক লেল্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের সম্পূর্ণ তৈরি যানবাহন, যন্ত্রাংশ ও সিকেডি আমদানি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এরপর বাংলাদেশে বাজারজাতকরণের জন্য স্থানীয়ভাবে সংযোজন, বডি তৈরি ও কেবিন নির্মাণ করে বিক্রি করে থাকে। প্রতিযোগিতা বজায় রেখে বডি তৈরি ও কেবিন নির্মাণে বাজার আরো বড় করার সুযোগ রয়েছে ইফাদ গ্রুপের।’
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































