ডা. শফিকুর রহমান
আত্মস্বীকৃত ধর্ষণকারী ও হত্যাকারীদের বিচার লম্বা হওয়া মানেই অন্যায়ের পক্ষ নেয়া বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কোনওভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না।
সোমবার (০১ জুন) বিকেলে পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফেরেন জামায়াতের আমীর। এরপর মিরপুরে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯ মে রামিসা হত্যাকাণ্ড হয়েছে। সেদিন দিবাগত রাতেই আমি হজের সফর শুরু করি। ওই সময়ই নৃশংস এ ঘটনা ঘটেছে। আমার সহকর্মীদের অনুরোধ করেছিলাম, আমরা সবাই সেখানে যাব, তাদের সান্ত্বনা দেব এবং তাদের কষ্টের অংশীদার হব।
তিনি বলেন, পাশবিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের সংগঠন প্রতিবাদ করেছে। বিচারের দাবি জানিয়েছে। এ নরপশুর বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর শাস্তি কার্যকর করার দাবিতে আমরা কর্মসূচি পালন করেছি।
আরও পড়ুন<<>>ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটলে গণতন্ত্র গোরস্তানে যাবে: রিজভী
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দাবি স্পষ্ট। যারা এ ধরনের ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের কোনওভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। যারা এভাবে আত্মস্বীকৃত ধর্ষণকারী ও হত্যাকারী, তাদের বিচার লম্বা হওয়া মানেই তাদের সহযোগিতা করা। অন্যায়ের পক্ষ নেয়া, দুষ্কৃতকারীর পক্ষ নেয়া।
তিনি আইনজীবীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আত্মস্বীকৃত এ ধরনের অপরাধীর পক্ষে কোনও আইনজীবী যেন আদালতে না দাঁড়ান। বিষয়টি নিয়ে কেউ যেন কোনও ধরনের রাজনীতি না করেন। এটা আমাদের ইজ্জত বাঁচানোর লড়াই। এ মেয়ে আমাদের ক্ষমা করবে না। যদি তার বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হয় হাশরের দিন আমরা সবাই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাব। আমরা সে আসামি হতে চাই না।
বিচার ব্যবস্থাকে দায়ী করে তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি, এ ধরনের ঘটনা আর দেখতে চাই না। কিন্তু হয়েই চলছে, বন্ধ হচ্ছে না। এর মূল কারণ হলো—বিচারের নামে অবিচার, বিচারের নামে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারের নামে তামাশা। এসব কারণে বিচারের প্রতি মানুষের কোনও আস্থা নেই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিচারের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপের কারণে। আমরা চাই, এ সংস্কৃতি থেকে বিচার বিভাগ বের হয়ে আসুক। বিচার বিভাগ শতভাগ স্বাধীন হোক। স্বাধীনতা নিয়ে তারা ন্যায়বিচার করুক। আমরা এটিই দাবি করব।
তিনি বলেন, আমরা সারা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে দাবি জানাই, রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার অতি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। কোনও আলামতের প্রয়োজন নেই, আলামত স্পষ্ট। অভিযুক্ত ও তার স্ত্রী কোনওভাবেই রেহাই পেতে পারে না। এ দুজনকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এখন বিচারকে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলতে ধানাই-পানাই করে আরও কারও নাম বলতে পারে। এটি একটি চক্রান্ত। রামিসার বিচার নিয়ে কোনও তামাশা করা হোক, আমরা তা চাই না।
আগামী ০৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হবে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ওই দিনেই শুধু রামিসার জন্য না, এ দেশের প্রত্যেকটি মেয়ের বাবা, দাদা ও নানা হয়ে আমি দাঁড়াবো, ইনশাআল্লাহ। লড়াই চলবে, এ লড়াইয়ে মানবতার বিজয় হবে। রামিসার মা-বাবা দুজনেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। দুজনকে আল্লাহ সুস্থতার নেয়ামত এনায়েত করুন। আর রামিসাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করুন।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































