ছবি: আপন দেশ
ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সঙ্গে গণতন্ত্র গোরস্তানে চলে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (০১ জুন) নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচতলায় দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে এখন পর্যন্ত সেটা হচ্ছে কর্মসংস্থানের সরকার, বেকার তৈরি করার সরকার না। বিএনপি বেকার তৈরি করেনি, বিএনপি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। আজকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে কোটির উপরে লোক সেখানে কাজ করে, এ কোটির উপর লোকের কর্মসংস্থানের মূল নায়ক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সে থেকে শুরু হয়েছে বিদেশী কর্মসংস্থান।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের এ দেশে কেউ বেকার থাকবে না। নানা সেক্টরে নানা উদ্যোগে চাকরি ব্যবস্থা করা হবে। হকার উচ্ছেদ করা হলেও তাদেরকে পুনবাসন করা হবে। কারণ তাদের সন্তান ও পরিবারকে দেখার দায়িত্ব সরকারের।
তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিবের শাসন আমলে রংপুর-কুড়িগ্রাম অঞ্চলে শাড়ি না পেয়ে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জা নিবারণ করেছে বাসন্তী। বাসন্তীর ছবি উঠেছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। তার মানে কাপড় নেই, খাওয়া নেই, জীবনযাপনের কোনো ঠাঁই নেই—এ পরিস্থিতি ছিল ৭২-৭৫-এ। তার সাড়ে তিন বছর যেভাবে বাংলাদেশে দুঃশাসন চালিয়ে, অপশাসন চালিয়ে গোটা জাতিকে কৃতদাস বানানোর চেষ্টা করেছিল এবং তার প্রভুদের কৃতদাস বানানোর চেষ্টা করেছিল।
রিজভী বলেন, জনগণের টাকা বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে টাকা পাচার করেছে। ২৮ লক্ষ কোটি টাকা ১৬ বছরে শেখ হাসিনা এবং তার দোসররা, তার আত্মীয়-স্বজনরা, তার দলের লোকরা পাচার করেছে।
আরও পড়ুন <<>> দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগকে যেভাবে দেখছে সর্বমিত্র চাকমা
জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, তারা বলে ‘আমরা ওদের (আওয়ামী লীগ) সব ক্ষমা করে দিব। ক্ষমা করলে কি আপনাদের বাঁচাবে? আপনারা বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তাদের সাথে ৯৪, ৯৫, ৯৬-এ আন্দোলন করেছিলেন। তার পরিণতি কি হয়েছে? তার পরিণতি হয়েছে আপনাদের নেতাদের ফাঁসি দিয়ে দিয়েছে। এ গায়ে পড়ে পিরিত করার পরিণাম কত ভয়াবহ হয়েছে?
মব কালচারকে ভয়ঙ্কর প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, আজকে যদি কোনো ছিদ্রপথে পুরনো ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে আপনারা কিন্তু কেউ রক্ষা পাবেন না। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব তো যাবেই, গণতন্ত্র তো গোরস্তানে চলে যাবে। তারপরের কি ভয়াবহ পরিণতি হয়, সেটা আপনারা টের পাবেন। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হওয়া সবচাইতে ভালো।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো আধিপত্য শক্তির কাছে মাথানত করেনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রশাসক আব্দুস সালাম, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহবায়ক আরিফুর রহমান তুষার পরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































