ডা. শফিকুর রহমান।
৫৯ জন ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতকে কেন মনোনয়ন দিয়েছে? এদের নিয়ে কীভাবে তারা দুর্নীতি দমন করার কথা বলে? এ প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
ঢাকা-১১ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলামের সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়
জামায়াত আমীর তার বক্তব্যে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের গণ-আকাঙ্ক্ষার তুলনা করেন। তিনি বলেন, ২৪-এ যুবসমাজের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। ৩৬ জুলাই অর্থাৎ ৫ আগস্ট এই জাতি ‘আওয়ামী জাহেলিয়াত’ থেকে মুক্তি পায়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ৬ আগস্ট সকাল থেকেই একটি অংশ আবারও চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না। কেন এখন মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন?
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা এখন জিম্মি। যারা সাড়ে ১৫ বছর দেশের বাইরে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন, তারা ফিরে এসে এখন খুনের মামলা দিয়ে শত শত কোটি টাকা দাবি করছেন। আগস্টের ৬ তারিখ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই অপকর্ম থামেনি। এমনকি ফুটপাতের ভিক্ষুকের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা কি এ জন্য লড়াই করেছিলাম যে, পুরাতন চাঁদাবাজের বোতলে নতুন চাঁদাবাজের জন্ম হবে?
ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রক্তের ঋণ পরিশোধ করার দিন। তরুণ সমাজ জানিয়ে দিয়েছে তারা পুরোনো বস্তাপচা রাজনীতি আর চায় না। তিনি আরও বলেন, আমরা যুবকদের হাতে দায়িত্ব দিতে চাই। বেকার ভাতা দিয়ে আমরা যুবসমাজকে অপমান করতে চাই না। আমরা চাই কর্মসংস্থান।
১০ টাকা কেজি চালের প্রতিশ্রুতিকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে তিনি বর্তমানের বিভিন্ন ‘কার্ড’ প্রথাকেও লাল কার্ড দেখানোর আহবান জানান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইনসাফের সরকার কায়েম হলে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী– কারও জন্যই আইনের ঊর্ধ্বে কোনো ছাড় থাকবে না। লুণ্ঠিত অর্থ বিদেশে পাচারকারীদের কাছ থেকে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক লড়াই চালানোর ঘোষণা দেন তিনি।
জনসভায় জামায়াত আমীর ঘোষণা করেন, জনগণ যদি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে রায় দেয়, তবে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে (শাপলা কলি প্রতীক) মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যাবে। তিনি বলেন, আমরা নাহিদ ইসলামের মতো তরুণদের পাইলট হিসেবে বসিয়ে নিজেরা পেছনের সিটে প্যাসেঞ্জার হয়ে বসবো। যুবকরা আমাদের হতাশ করবে না।
জনসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এ জনসভায় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
আপন দেশ/এমবি
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































