ছবি: আপন দেশ
আষাঢ়ের বিদায়ের সুর বাজছে। প্রকৃতিতে এখন চলছে বর্ষাকাল। গত কয়েক দিন ধরেই থেমে থেমে ঝড়ছে বৃষ্টি। রাজধানী ঢাকার অনেক জায়গায় তৈরি হয়েছে জলজট। অনেক বাজারেও জমেছে পানি। এ সুযোগে বৃষ্টির অজুহাতে জরুরি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে বেড়েছে সবজির দাম। মান ও আকারভেদে বিভিন্ন সবজি ১০-২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেড়েছে মাছ, ডিম, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামও।
বিক্রেতারা বলছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাজারে সরবরাহ কম। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ বৃষ্টির অজুহাতে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম হাকাচ্ছেন।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর মুগদা, কমলাপুর, ফকিরেরপুল ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
কমলাপুর কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে ৬০-৮০ টাকায় সাধারণ মানের বেগুন বিক্রি হলেও এদিন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০-৬০ টাকার পটোল বিক্রি হয় ৫০-৬০ টাকায়। মিষ্টিকুমড়ার দাম অপরিবর্তিত। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। ঝিঙ্গা ৬০-৭০, কাঁকরোল ৭০-৮০, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা ৫০-৬০, কচুরলতি ৭০-৯০, বরবটি ৬০-৮০, শসা ৬০-৯০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া কাঁচামরিচ ৮০-১৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
দাম বাড়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েকদিনের বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীতে সবজির গাড়ি কম এসেছে। এতে কিছুটা সরবরাহ কমেছে। ফলে দাম বেড়েছে।
সবজি বিক্রেতা আল আমিন বলেন, সবজির দাম সকালে এক রকম, বিকালে অন্য রকম। গত সপ্তাহের সঙ্গে দাম তুলনা করলে চলবে না। প্রতিদিনই দাম পরিবর্তন হয়। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি, কোথাও কোথাও বন্যা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাঠ থেকে কৃষক সবজি তুলতে পারছেন না। সেজন্য আবহাওয়া খারাপ হলে বাজারে সরবরাহ কমে যায়। তখন দাম বাড়ে। বড় ধরনের বন্যা না হলে রোদ উঠলে আবার ঠিক হয়ে যাবে।
বেড়েছে মুরগির দামও। গত সপ্তাহে বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এদিন ১৭০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৬০ টাকা, লেয়ার ৩২০-৩৪০ এবং দেশী মুরগি ৬২০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন<<>>ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ থেকে কার্যকর
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম বেড়েছে। প্রতি ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। আর প্রতি ডজন সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, খামার থেকে ডিমের দাম কিছুটা বেড়ে এসেছে। তাই খুচরা বাজারেও ১০ টাকা বাড়াতে হয়েছে।
এদিকে গরুর মাংসের দাম ৭৫০-৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে কয়েকটি মাছের দাম বেশ চড়া। চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৮০০, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ ও ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কৈ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশ তো এখন সোনার হরিণ। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম হাকা হচ্ছে কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বোয়াল মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।
বাজার করতে আস আব্দুল মালেক বলেন, সবজির দাম চড়া। মাঝে সামান্য কমেছিল। আবার বেড়েছে। মাছ-মাংসের দামও চড়া। বাজারে কোনো পণ্যে ক্রেতার জন্য স্বস্তি নেই।
অন্যদিকে চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। সেদ্ধ চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৪ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭৫ থেকে ৭৬ টাকা। তবে পোলাওয়ের চালের বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। দাম কিছুটা বেড়ে প্রতিকেজি পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়।
চালের পাইকারি বিক্রেতারা জানান, গত চার-পাঁচ দিনে পাইকারি চালের বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত সপ্তাহে কিছুটা দাম বাড়লেও এ সপ্তাহে স্থিতিশীল ছিল।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































