ছবি: আপন দেশ
টানা বৃষ্টিপাতে রাজধানীর সড়ক-অলি-গলি বিভিন্ন সড়ক-অলিগলি ডুবে গেছে। নয়া পল্টনের লম্বা সড়কে কোমড় পানি। এ সড়কে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। কার্যালয়ের নিচতলার সিড়ির কাছে থৈ থৈ করছে পানি।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সকালে অফিসে আসেন। দুপুরে যখন অফিস ছেড়ে যান তাকে পানি ডিঙ্গিয়ে নিতে কার্যালয়ের ভেতরে রিকশা এনে পার করতে হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সকালে বাসা থেকে নয়া পল্টনের অফিসে আসেন রুহুল কবির রিজভী। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দলের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করতে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উ্ন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, অধ্যাপকি আমিনুল ইসলামকেও পানি ডিঙ্গিয়ে অফিসে আসতে দেখা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দলের কর্মী সোহেল মাহমুদ বলেন, নয়া পল্টনের সড়কে এখন পানি এতো বেশি আটকিয়ে আছে যে, পুরো সড়কটাই ডুবে গেছে। যান্ত্রিক যানও চলতে পারছে না পানি কারণে। কারণ ইঞ্জিনে পানি ঢুকলে বন্ধ হয়ে যায়।
বিএনপির অফিস কর্মী শামীম বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতে রাত থেকে। সকাল থেকেই পল্টনের সড়কের পানি জমতে শুরু করে। সকাল ৯টার আগেই ফকিরেরপুল মোড় থেকে কাকরাইল পর্যন্ত লম্বা সড়ক যেন কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের মতো পানি ঢেউ এসে কার্যালয়ের ভেতরে আচঁড় খাচ্ছে। আমি অফিসে ছিলাম। আমাদের কয়েকজন সহকর্মীকে পানি ডিঙিয়ে অফিসে আসতে হয়েছে।
বিজয়নগর, কাকরাইল, ফকিরেরপুল, শান্তিনগর, মালিবাগ বিভিন্ন সড়ক সকাল ১০টার মধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সাপ্তাহের প্রথম দিন রোববার অফিস-বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে।
আরও পড়ুন<<>>রাজধানীতে টানা বৃষ্টি, তীব্র যানজটে ভোগান্তি
বিজয়নগরের কাছে পরিচ্ছিন্নতা কর্মী সুলায়মান বলেন, সকালে কাজে বেরিয়ে দেখি রাস্তায় পানি। পানি ডিঙ্গিয়ে মানুষজনের ঘর থেকে ময়লা সংগ্রহ কঠিন কাজ। সকালে বৃষ্টির মাত্রা বেশি ছিলো। ফলে ময়লা সংগ্রহ থমকে গেছে।
এখনো অনেক বাড়ি-ঘরে ময়লা সংগ্রহ বাকী আছে। অন্যসময় দুপুরের মধ্যে কাজ শেষ হতো । আজকে এখন বেলা দুইটা বাজে কাজ শেষ করতে পারিনি।
নয়া পল্টনের সড়কের দুই ধারে রয়েছে বিভিন্ন গাড়ির শো-রুম। রয়েছে, বিপনী বিতান। এ সড়কের পাশের সব দোকানপাটে পানি প্রবেশ করেছে। বিজয়নগরের বাসিন্দা আনোয়ারুল আলম খান বলেন, আজকে অফিসে যেতে বের হয়ে পুরোটা ভিজে গেছি। আবার বাসায় এসে কাপড় বদলিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি।
এতো পানি সড়কে যে, কোনো রিকশা কিংবা অটো যাচ্ছে না। দেখবেন নয়া পল্টনের সড়কে বিভিন্ন স্থানে সিএনজি এবং ছোট প্রাইভেট কার থেকে আছে। কারণ ওইসব যানে পানি ঢুকে যাওয়ায় তা চলছে না। একটা অস্বস্তিকর অবস্থা।
তিনি বলেন, আধাবেলা টানা বৃষ্টি হলেই মালিবাগ, কাকরাইল, শান্তিনগর, নয়া পল্টন ডুবে যায়। এটা নতুন কোনো সমস্যা নয়। আমার মনে হয়, সরকারের এ দিকে দ্রুত নজর দেয়া উচিত। রাজধানী যদি ডুবে থাকে তাহলে তো দেশ চলবে কিভাবে?
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































