Apan Desh | আপন দেশ

একটি দল ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৩:৫৪, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

একটি দল ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন

ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দল ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) গুলশানে দলের নির্বাচনী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র জানান, এবার সাবেক ৮৫ এমপিকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সাবেক মন্ত্রী আছেন ১৯ জন। গুম হওয়া তিন জন এবং গুম পরিবারের ২ জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ২৯২ আসনে ধানের শিষের প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। এসব প্রার্থীর মধ্যে ২৩৭ জন ন্যূনতম স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে ভোটারদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেয়া ঈমানি দায়িত্ব। ওই প্রতীককে জয়ী করা মানেই ঈমানকে জয়ী করা এবং এমনকি কবরে গিয়ে এ বিষয়ে জবাব দেয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, ধর্মের এমন অপব্যাখ্যা ও ভয় দেখিয়ে ভোট চাওয়ার অপচেষ্টা শুধু অনৈতিক নয়, এটি সরাসরি আইনবিরোধী।

তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে পুঁজি করে ভোটারদের প্রভাবিত করার এই প্রবণতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(১) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মের অপব্যবহার করে ভোট চাওয়া ‘অসৎ প্রভাব বিস্তার’-এর শামিল, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নীরবতা বা বিলম্ব দেশবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন<<>>তারেক রহমানের রাজশাহী সফর পেছাল

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, নির্দিষ্ট দলের কর্মী-সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ করে নারী ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, এমন তথ্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি আমলে নেয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইতোমধ্যে সংগৃহীত এসব ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া ও জাল ভোট প্রদান, মৃত ব্যক্তির নামে ভোট দেয়া কিংবা আর্থিক প্রলোভনের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে।

মাহ্দী আমিন বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯, দণ্ডবিধি ১৮৬০ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই দ্রুত এসব বেআইনি তৎপরতা বন্ধে এবং এনআইডি তথ্যের অপব্যবহার রোধে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। 

তিনি আরও জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৫ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে এসব সদস্যের বড় একটি অংশ স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিদের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব দেয়া হলে নিরপেক্ষতা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ কারণে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিজ থানার বাইরে দায়িত্ব দেয়ার দাবি জানায় বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ধর্মের অপব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের অপচালন এবং প্রশাসনিক পক্ষপাত রোধে এখনই দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেবে এবং দেশবাসী একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়