ছবি: আপন দেশ
আজ ০৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার), জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬। দেশের প্রতিটি নাগরিকের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা, জনসংখ্যার সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরাই এ দিবসের লক্ষ্য।
এ বছর জাতীয় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। সঠিক ও নির্ভুল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কেবল নাগরিক অধিকার সুরক্ষার ভিত্তিই নয়। বরং উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ন্যায়সংগত বাজেট বণ্টন এবং রাষ্ট্রীয় সুশাসন নিশ্চিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও কিছু আইনি দুর্বলতা এ লক্ষ্য পূরণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জন্মের এক বছরের মধ্যে জন্ম নিবন্ধনের হার ছিল ৪৩ শতাংশ। একই সময়ে মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে মৃত্যু নিবন্ধনের হার ছিল ৫৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে এ হার ছিল যথাক্রমে ৬৩ ও ৫৯ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জন্ম নিবন্ধনের হার ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং মৃত্যু নিবন্ধন ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।
এর আগে ২০২৪ সালে এক বছরের মধ্যে জন্ম নিবন্ধনের হার ছিল ৪৯ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে উভয় ক্ষেত্রেই অগ্রগতি হলেও চলতি বছরের প্রথমার্ধে সে ধারা অব্যাহত থাকেনি।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস (সিআরভিএস) আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনার আওতায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সময়মতো নিবন্ধন নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গড় হার যথাক্রমে ৫০ এবং ৪৭ শতাংশ অর্থাৎ এখনো অর্ধেক মানুষকে নিবন্ধন না থাকার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। সময়মতো ও নির্ভুল নিবন্ধনের অভাবে দেশে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানবপাচারসহ বিভিন্ন ধরনের মানবধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যাহত করছে। একইভাবে, মৃত্যু নিবন্ধন না থাকায় উত্তরাধিকার প্রমাণে জটিলতা সৃষ্টি হয়। আত্মীয়দের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে গ্রাম, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা ও নগরের বস্তি এলাকায় মৃত্যু নিবন্ধন হার অনেক কম।
আরও পড়ুন<<>>বিশ্ব বসতি দিবস আজ
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্ভুল নিবন্ধন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ এর সংস্কার প্রয়োজন। পরিবারের ওপর একক দায় না রেখে সকল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে সরাসরি নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রদান করা হলে দেশে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নেয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশু স্বয়ংক্রিয় ও নির্ভুল নিবন্ধনের আওতায় আসবে। এতে তথ্য বিকৃতি কমবে, ভুয়া বা ভুল নিবন্ধনের সুযোগ বন্ধ হবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এসডিজি ১৬.৯ (সবার জন্য আইনি পরিচয় নিশ্চিতকরণ) অর্জন দ্রুততর হবে।
দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাজধানীসহ দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা ও বিশেষ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ক্যাম্পেইন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকদের সময়মতো সঠিক তথ্য দিয়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে উৎসাহিত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতের পরিকল্পনা প্রণয়নে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নির্ভুল নিবন্ধন না হলে জনসংখ্যা ও নাগরিকদের মৌলিক তথ্যের সঠিক চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে সরকারি সেবা প্রদান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নেও প্রভাব পড়তে পারে।
জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে এক প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)-এর নির্বাহী পরিচালক, এবিএম জুবায়ের বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করার প্রথম শর্তই হলো নাগরিকদের নির্ভুল ও সার্বজনীন তথ্য সংরক্ষণ। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব দিলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































