Apan Desh | আপন দেশ

আজ বিশ্ব চা দিবস

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৯, ২১ মে ২০২৬

আজ বিশ্ব চা দিবস

ছবি: আপন দেশ

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অসংখ্য মানুষের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে আছে একটি পানীয়, যার নাম ‘চা’। এক কাপ চা কেবল উষ্ণ পানীয় নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে কথোপকথনের শুরু বা আড্ডার আসর জমিয়ে তুলতে চায়ের সঙ্গে অন্য কোনো পানীয়র তুলনাই হয় না। পড়াশোনার ফাঁকে, দীর্ঘ আলাপচারিতায়, পারিবারিক গেট-টুগেদার কিংবা হঠাৎ আসা অতিথি আপ্যায়নে—যেকোনো পরিস্থিতিতেই এক কাপ চা যেন আলাদা আমেজ যোগ করে। আজ ২১ মে (বৃহস্পতিবার), আন্তর্জাতিক চা দিবস। 

কেবল একটি জনপ্রিয় পানীয় হিসেবেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এ অনন্য পাতাটির গুরুত্বকে উদযাপন করতেই বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশেষ এ দিনটি।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম চা উৎপাদনকারী দেশ। সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগানে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চায়ের উৎপাদন শুরু হয়। বাংলাদেশে সিলেট, মৌলভীবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিস্তীর্ণ চা-বাগান রয়েছে। এসব চা-বাগান আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি পর্যটনশিল্পেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 

অপরূপ সৌন্দর্যে বিস্তৃত এ বাগানগুলোর মাঝেই দিনরাত পরিশ্রম করেন হাজার হাজার চা-শ্রমিক। এ শ্রমিকদের ঘাম আর কষ্টেই গড়ে উঠেছে বিশাল চা-শিল্প। অথচ যে কাঁধে ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী খাত, সে চা-শ্রমিকেরাই রয়ে গেছেন সমাজের পিছিয়ে থাকা ও অবহেলিত জনগোষ্ঠী হিসেবে। চা-শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের মধ্যে বেশির ভাগ প্রজন্মের পর প্রজন্ম এ পেশায় যুক্ত। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্পে কাজ করেও তাদের জীবনমান এখনো খুব বেশি উন্নত হয়নি। 

আরও পড়ুন<<>>আজ বিশ্ব মৌমাছি দিবস

আজও একজন চা-শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১২০-১৭০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসার মতো কোনো মৌলিক চাহিদাই এ আয় দিয়ে পূরণ করা যায় না। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চা-পাতা তুলতে হয়, কিন্তু সে শ্রমের তুলনায় তাদের আয় খুবই কম।

দিবসটির পেছনের মূল উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য
পানির পর বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি পান করা হয় যে পানীয়টি, তা হলো চা। এটি শুধু একটি সস্তা পানীয়ই নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর দারিদ্র্য বিমোচন ও গ্রামীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। চা দিবস পালনের মূল লক্ষ্য শুধু চা পানের আনন্দ উদযাপন করা নয় বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্দেশ্য। বিশ্বজুড়ে চা চাষের সঙ্গে লাখ লাখ প্রান্তিক চাষি ও শ্রমিক জড়িত, যাদের একটি বড় অংশই নারী।

আজকের এ বিশেষ দিনে পরিবেশবিদ ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে, তাতে চায়ের উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে। তাই নিজেদের প্রতিদিনের প্রশান্তি আর কোটি শ্রমিকের জীবন বাঁচানোর তাগিদেই চা বাগানগুলোর সুরক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়