ছবি: আপন দেশ
মো. আলমগীর হোসেনের যুগল কবিতা
১
অপ্রকাশিত আত্মত্যাগ
আব্বাজান,
আপনার সেই পুরনো চটি আর ঘাম ভেজা শার্টের মানে—
আজ আমি বুঝি, যখন জীবন আমায় লড়তে শেখালো রণাঙ্গনে।
ঈদের বাজারে আপনি ঘুরতেন শূন্য হাতে, ম্লান মুখে,
অথচ আমার নতুন জামার ঘ্রাণে কী অদ্ভুত তৃপ্তি থাকতো আপনার বুকে!
আমিও আজ ঠিক আপনার মতো, আয়নার সামনে দাঁড়ালে আপনাকে দেখি,
নিজের শখগুলো সিন্দুকে তুলে রেখে দিনরাত এক করে খাটি।
সবার জন্য কেনাকাটা সারা, ঘর ভরেছে নতুন সাজে—
শুধু আমার পায়ের পুরনো জুতোটা রয়ে গেছে আজও, সব কাজের মাঝে।
আব্বাজান, এখন আমি জানি—
পুরুষের জন্ম বুঝি কেবল নিজের ভালো থাকার তরে নয়,
বুকের পাঁজরে কষ্ট চেপে অন্যকে ভালো রাখাই আসল পরিচয়।
ঈদের সকালে সবাই যখন উৎসবে মাতবে খুশির কলতলে—
আমি তখন কেবলই ব্যস্ত থাকবো রুজির কর্মস্থলে।
আমি দূর থেকেই ভাববো আমার পরিবারের হাসি,
সেই হাসিতেই মুক্তি পাবে আমার সব ক্লান্তি, সব না-বলা রাশি।
নিজের জন্য কেনা হলো না কিছুই, বুকের ভেতর চাপা হাহাকার,
তবু আপনার মতো হতে পেরেছি— এটাই আমার গর্ব আমার আত্ম অহংকার।
২
বিফল প্রতিরোধ
যার জন্য লড়াই করলাম
অথচ তার আঘাতেই আমি খুন হলাম;
এক নিমিষেই ধ্বংস হলো আমার পৃথিবী!
আমি তো চেয়েছিলাম তার চারধারে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হতে
যাতে কোনো তপ্ত হাওয়া তাকে ছুঁতে না পারে কখনো।
অসহায়ত্ব এখানেই—যে দেয়াল আমি তুলেছিলাম তাকে বাঁচাতে
সেই দেয়ালের ভেতরেই আমি বন্দি হলাম আজ।
আমি যার রক্ষাকবচ হতে চেয়েছি প্রতিনিয়ত
তার হাতেই বিষ মাখানো তীরের নিঃশব্দ আঘাত।
এই বিশ্বাসঘাতকতা কোনো রণক্ষেত্রের নয়
এ তো এক অতর্কিত যন্ত্রণার নীল বিষ;
আমি যখন তাকে বাঁচাতে শেষ রক্তটুকু দিচ্ছিলাম
সে তখন ব্যস্ত ছিল আমার মৃত্যু সজ্জা সাজাতে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএইচ
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































