Apan Desh | আপন দেশ

বৈশ্বিক চাপ মোকাবিলায় আইএমএফ সহায়তা চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২৩:১১, ২৪ মার্চ ২০২৬

বৈশ্বিক চাপ মোকাবিলায় আইএমএফ সহায়তা চায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে টিকে থাকতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় আগামী জুনে পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকায় সফররত আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বৈঠকে এসব বিষয় গুরুত্ব পায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, যুদ্ধের প্রভাব, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, পুঁজিবাজারের অস্থিরতা এবং নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত—এসব মিলিয়ে অর্থনীতি চাপের মুখে রয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তবে ঋণের কিস্তি ছাড়ের শর্তগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে শর্ত পূরণ করা হবে।

অন্যদিকে কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন নতুন ঋণের বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত না করলেও ইঙ্গিত দেন যে অর্থায়ন ও নীতিগত আলোচনা একসঙ্গে এগোচ্ছে। তার মতে, যেকোনো আর্থিক সহায়তা নীতিগত সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চলছে।

সূত্র জানায়, আগামী এপ্রিলে ওয়াশিংটনে আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে ঋণ কর্মসূচিতে অগ্রগতি হতে পারে। এরপর একটি মিশন ঢাকায় এসে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে, যা আইএমএফের পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ জুনে কিস্তি ছাড় চাইলেও তা জুলাই পর্যন্ত গড়াতে পারে।

বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। পরে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। বাকি রয়েছে ১৮৬ কোটি ডলার। গত বছরের ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো স্থগিত রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হলেও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার সক্ষম হয়েছে। তার দাবি, দ্রব্যমূল্যও নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়েছে, যা নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে।

অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে উদারীকরণ, ব্যবসা সহজীকরণ এবং ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের প্রতিফলন আগামী বাজেটে দেখা যাবে।

আরও পড়ুন <<>> সূচকের পতনে চলছে লেনদেন

বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের সহযোগিতা কামনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা একার পক্ষে সম্ভব নয়। সংযম ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

আইএমএফ প্রতিনিধি কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনও বলেন, বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে আইএমএফ বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়