ছবি: আপন দেশ
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে যাদের যাত্রা শুরু তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মির্জা আব্বাস। জিয়া সারা দেশে তাঁর রাজনীতিকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিলেন সেই সময় গ্রহণযোগ্য কিছু নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে। দেশের প্রাণকেন্দ্র এ রাজধানী ঢাকায় তাঁর নেতৃত্বকে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ঢাকায় হাতে গোনা জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য এবং পরিক্ষীত কিছু নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে।
মির্জা আব্বাস জিয়ার কাছে অতিশয় প্রিয়, গ্রহণযোগ্য এবং পরীক্ষিত ছিলেন বলেই ১৯৭৭ সালে তাকে ঢাকার শাজাহানপুর এলাকা থেকে কমিশনার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। তারুণ্যে ভরপুর, দায়িত্ব সচেতন, দলের প্রতি পরিপূর্ণ আস্থাশীল, নেতৃত্বে সফল মির্জা আব্বাস কমিশনার নির্বাচিত হয়ে জিয়ার নেতৃত্বকে গতিশীল করার নিরবিচ্ছিন্ন কার্যক্রমে আন্তরিক ভাবে একাকার হন।
একদিকে প্রেসিডেন্ট জিয়ার ব্লেস অন্য দিকে মির্জা আব্বাসের তারুণ্য দীপ্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম। ঢাকাতে তখন মির্জা আব্বাসের আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা। ৭৯৮১ সালে জিয়া শহীদ হওয়ার পর বিএনপির রাজনীতিতে শুরু হয় অত্যাচার, নির্যাতন এবং এবং দল ভাঙ্গনের নানামুখী খেলা। এরশাদের সুযোগ সুবিধা নেয়ার নির্লজ্জ প্রতিযোগীতায় মেতে উঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। সেই সময় মির্জা আব্বাস হিমালয় সম পাহাড়ের মতো মাথা উচু করে দাঁড়ায় এরশাদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। এরশাদের টানা ৯ বছর দুঃশাসনের ক্রান্তিকালে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বকে ভ্যানগার্ডের মত পাহারা দিয়েছেন মির্জা আব্বাস জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। ৯০’এর গণঅভ্যুত্থানের সফলতার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কারিগরদের অন্যতম এ মির্জা আব্বাস। ঢাকা মহানগর যুবদলের সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি। সারাদেশে যুবদলের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী তৈরি করেছেন। মির্জা আব্বাস প্রথমে ঢাকার মেয়র এবং পরে গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রী হিসাবে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন বেগম খালেদা জিয়ার সরকারে।
আরও পড়ুন<<>> জিয়ার দর্শন: ন্যায়ের শাসন। গ্রামই অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু
১/১১ পরবর্তী পর্যায়ে মির্জা আব্বাস ও তার পরিবারের ওপর স্বৈরাচার শেখ হাসিনা অত্যাচার ও নির্যাতনের যে ষ্টীম রোলার চালিয়েছিল তার অনেক নির্মম পরিস্থিতি জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। মির্জা আব্বাসের রাজনীতির ভিত্তি অনেক মজবুত। শত বছরের বটবৃক্ষের মূল শেকড়ের মত তার অস্তিত্বের স্তম্ভ গণমানুষের বিশ্বাসে,অনুভবে ও অন্তরের গভীরে। নতুন করে তার গ্রহণ যোগ্যতার ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয় না। মির্জা আব্বাস বিএনপির এক পাকা পোক্ত স্তম্ভ। ঢাকা শহরে বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃত্বের বিবেচনায় মির্জা আব্বাসের বিকল্প নেই। যেহেতু রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র ঢাকা মহানগর কাজেই এ নগরে বিএনপি’র পাকাপোক্ত অবস্থানকে নড়বড়ে করতে হলে মির্জা আব্বাসের মত রাজনীতিকের নামে বদনাম ছড়ানো, তাকে বিতর্কিত করা এবং তার নামে বেফাস অশ্লীল বয়ানের হীন উদ্দেশ্যে লিপ্ত হয়েছে একটি গোষ্ঠী। এরা জেনে শুনেই করছে এসব।
বলা প্রয়োজন কমলাপুর রেল স্টেশন স্থাপনের প্রায় ১০০ বছর পূর্বে থেকে মির্জা আব্বাসের পরিবার শাহজাহানপুর এলাকায় বসবাস করছেন। শাহজাহানপুরে বিশাল জায়গা তাদের পূর্ব পুরুষদের পৈতৃক সম্পত্তি। বরং রেল কর্তৃপক্ষ মির্জা আব্বাসদের পৈতৃক সম্পত্তির অনেক জায়গা অধিগ্রহণ করে নিয়েছে রেলওয়ের প্রয়োজনে। অথচ অপপ্রচার করা হচ্ছে মির্জা আব্বাসের পায়ের নিচের মাটি রেলওয়ের। এর চেয়ে জঘন্য নিকৃষ্টতম মিথ্যাচার আর কি হতে পারে? রেলওয়ে কতৃপক্ষ কিংবা রেল মন্ত্রণালয় আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো দাবি তোলেনি । কিন্তু প্রোপাগান্ডার মাত্রা এত বেশি যে মিথ্যা বয়ান দিয়ে মির্জা আব্বাসকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি গোষ্ঠী ওঠে পরে লেগেছে।
যে সময়টাতে মির্জা আব্বাস কমিশনার নির্বাচিত হন সেই সময় ঢাকা মহানগরীর অনেক স্বনাম ধন্য ব্যক্তি কমিশনার নির্বাচিত হন। যেমন ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত (পরবর্তী পর্যায়ে মেয়র), মেয়র হানিফের শ্বশুর মাজেদ সরকার কমিশনার হন। অথচ মির্জা আব্বাস কে বলা হচ্ছে দুই টাকার কমিশন ১৯৭৭ সালে যার বয়স ছিল ৮/১০ তাদের সন্তানেরা মির্জা আব্বাস কে বলছে দুই টাকার কমিশনার। এত ঔদ্বত্বপূর্ণ আচরন? কোন রাজনীতিকের বিরুদ্ধে এপর্যন্ত এমন নিকৃষ্ট বয়ান শুনিনি। মির্জা আব্বাসকে প্রতিদিন জনসম্মুখকে বলা হচ্ছে “চান্দা আব্বাস”। ২০২৬ সালে নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর থেকে কথা শুরু হয় তার বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার। মির্জা আব্বাসের দীর্ঘ ৫০ বছরের রাজনীতিতে তার নামে তো কেউ এমন অভিযোগ তোলেনি।
শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লেখা<<>> একটি কফিন ঘিরে বাংলাদেশ
কোন দুর্নীতির প্রমাণও করতে পারেনি তার বিরুদ্ধে। এ অপপ্রচারের কারণ আসলে মির্জা আব্বাসকে রাজনৈতিক ও সমাজিক ভাবে বিতর্কিত করে ঢাকা মহানগর রাজনীতিকে কথিত সৎ লোকদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা। ঢাকায় একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ব দখলের খায়েস। বিএনপি না বুঝে হোক বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে হোক মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা এ নীল নকশাকে মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। কিন্তু কিছুতেই বিএনপির জন্য এটা কল্যাণ বয়ে আনবে না বরং এটা বিএনপির জন্য নিশ্চয়ই বুমেরাং হবে। মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়টিকে এড়িয়ে গেলে বিএনপি নিকট ভবিষ্যতেই টের পাবে। দেখা যাবে দুইদিন পরে বিএনপির আরো গুরুত্ব নেতার বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে পরিকল্পিত অপপ্রচার।
মির্জা আব্বাস একদিনে দু দিনে তৈরি হয় না। মির্জা আব্বাস বিএনপি রাজনীতির এমন এক কারিগর দলের গোড়াপত্তন থেকে শুরু করে বিভিন্ন দুঃসময়ে যার ভূমিকা অনিস্বীকার্য। জিয়ার হাত ধরে যার রাজনীতির যাত্রা শুরু, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যার নেতৃত্বকে সফলতার ছাড়পত্র দিয়েছেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাকে রাজনৈতিক উপদেষ্টার মর্যাদা দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ পরিকল্পিত বয়ান কেবল নাম গোত্রহীন অর্বাচীনদের মুখেই মানায়। যাদের মানসিক টর্চার মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার কারণ মহান আল্লাহ তা’আলা তাদের হেদায়াত দান করুন। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনা করি।
লেখক: গীতিকার, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































