ছবি সংগৃহীত
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালি। সমুদ্রপথে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে। তাদের অবরোধের কারণে সেখানে অনেক জাহাজ আটকে পড়েছে। এসব জাহাজগুলোকে মুক্ত করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে ইরান এটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের হুমকি হিসেবে দেখছে, ফলে ভঙ্গুর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ‘মুক্ত করতে সহায়তা করবে’। সোমবার (০৪ মে) থেকে এ উদ্যোগ শুরু হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। অর্থাৎ এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন যে ইরানের আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করবে, সে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এর আগে স্থানীয় সময় রোববার (০৩ মে) ট্রাম্প বলেন, বিভিন্ন দেশের অনুরোধে তিনি এ অভিযান শুরু করছেন, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’। তিনি সতর্ক করে দেন, এ উদ্যোগে কোনও বাধা দেয়া হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, তারা কেবল নিরপেক্ষ ও নিরীহ দর্শক! তবে কোন দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে, তা উল্লেখ করেননি তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইরান, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আমরা এসব দেশকে জানিয়েছি, আমরা তাদের জাহাজগুলোকে নিরাপদে এ সীমাবদ্ধ সমুদ্রপথ থেকে বের করে আনতে সহায়তা করব, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে। ট্রাম্প জানান, অনেক জাহাজে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কমে আসছে। আর এটি বড় সংখ্যক ক্রুর জন্য স্বাস্থ্যকর অবস্থায় থাকা কঠিন করে তুলছে। তিনি বলেন, এ অভিযানে বাধা দিলে দুঃখজনকভাবে শক্তভাবে তা মোকাবিলা করতে হবে।
আরও পড়ুন<<>>ইরান উপকূলে পণ্যবাহী জাহাজে হামলা
এদিকে এ অভিযান কীভাবে পরিচালিত হবে বা তেহরানের সঙ্গে কোনও সমন্বয় থাকবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদি ইরান এর বিরোধিতা করে, তাহলে ৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেন, প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও হস্তক্ষেপ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি এক্সে দেয়া এক পোস্টে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ট্রাম্পের বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়ে পরিচালিত হবে না! দোষ চাপানোর কৌশলে কেউ বিশ্বাস করবে না!
অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার থেকে তারা প্রণালিতে ‘স্বাধীনভাবে চলাচল করতে চাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সহায়তা করবে। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, এ প্রতিরক্ষামূলক মিশনে আমাদের সহায়তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, একই সঙ্গে আমরা নৌ অবরোধও বজায় রাখছি।
তবে কীভাবে জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা এখনও এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজের সরাসরি চলাচলের জন্য প্রস্তুত নয়, কারণ সেখানে ইরানের দিক থেকে হামলার ঝুঁকি রয়েছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































