ছবি: আপন দেশ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি হবে না। দেশে বর্তমানে এক কোটিরও বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে, ফলে আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই।
রোববার (০৩ মে) সচিবালয়ের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারের কাছে থাকা সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খামারিদের কাছে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ মিলিয়ে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় বেশি। তাই এবার কোরবানির পশু নিয়ে কোনো সংকট বা ঘাটতির সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, অতীতে কোরবানির সময় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পশু প্রবেশের কারণে দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। তবে বর্তমানে এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী হাটগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যাতে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি হাট বসবে। এসব হাটে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি টিম মোতায়েন থাকবে। কোনো পশু অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হাটে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া পশু পরিবহনের সময় যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, তরুণ খামারিদের মধ্যে অনলাইনে পশু বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে। এ ধরনের বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের খাজনা বা হাসিল আরোপ করা হবে না। এছাড়া কোরবানির সময় চামড়া নষ্ট হওয়া রোধে কসাইদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এতে চামড়ার গুণগতমান বজায় রাখা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন <<>> সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মোট প্রাপ্যতা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং অন্যান্য প্রজাতি-যেমন উট, দুম্বা ইত্যাদি মোট ৫ হাজার ৬৫৫টি।
অন্যদিকে বিভাগীয় পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে কোরবানিযোগ্য পশুর সর্বোচ্চ সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। সে হিসাবে চলতি বছরে দেশে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সম্ভাব্য প্রাপ্যতা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। সে সময় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল প্রায় ২০ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে।
তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, ওই বছরে জবাইকৃত গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি, ফলে হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৩৩ লাখ ১০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থেকে যায়।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।


































