Apan Desh | আপন দেশ

সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের

আন্তজাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৯:১৬, ১৬ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ০৯:১৬, ১৬ মার্চ ২০২৬

সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতিবাচক বা সমালোচনামূলক সংবাদ প্রচার করলে সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এরমধ্যে দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমান প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, সম্প্রচারকারী মাধ্যমগুলোকে অবশ্যই ‘জনস্বার্থে’ কাজ করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, যেসব সংবাদমাধ্যম ‘ভুয়া খবর’ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াবে, লাইসেন্স নবায়নের সময় তাদের কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।

কারের এ বক্তব্যকে সংবাদমাধ্যমের ওপর সরাসরি চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে কৌতুক অভিনেতা জিমি কিমেলের শো নিয়ে এবিসি চ্যানেলকে দেয়া তার হুমকি এবং পরবর্তীতে শো সাময়িক বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি এ উদ্বেগকে আরও উসকে দিয়েছে।

সম্প্রতি সৌদিতে ইরানি হামলায় মার্কিন তেলের বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর গণমাধ্যমে আসার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ তিনি দাবি করেন, মিডিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে বলছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘বাজে মিডিয়া’ চায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে হেরে যাক।

অন্যদিকে, প্রশাসনের নীতি নির্ধারকরা সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘দেশপ্রেমিক’ হওয়ার আহবান জানাচ্ছেন। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের যুদ্ধের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পরামর্শ দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের উচিত ইরানের ‘দুর্বলতা’র খবর প্রচার করা, যুদ্ধের ভয়াবহতার নয়।

আরও পড়ুন<<>>নেতানিয়াহুকে হত্যার শপথ আইআরজিসির

ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মার্কিন রাজনীতিবিদ এবং মানবাধিকার কর্মীরা। হাওয়াইয়ের সিনেটর ব্রায়ান শাটজ একে সরাসরি সেন্সরশিপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এটি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া একটি পরিষ্কার বার্তা— হয় সরকারের গুণগান গাও, নয়তো বন্ধ হয়ে যাও।’

ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন (ফায়ার)-এর অ্যারন টের বলেন, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী সরকার যুদ্ধের কোনো তথ্য সেন্সর করতে পারে না।

ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধে জয়ের দাবি করলেও কুইনিপিয়াকের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে এ সামরিক অভিযানের বিরোধী। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এ যুদ্ধকে বিনা উস্কানিতে আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর অব্যাহত হামলার মধ্যেও ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সব ঠিক আছে’ দাবি মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যুদ্ধের মাঠ, অন্যদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা— দুই ফ্রন্টেই এখন উত্তাল আমেরিকা।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়