ছবি : সংগৃহীত
ইরানের অভিজাত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে ২ দিনব্যাপী লাইভ-ফায়ার নৌ মহড়ার ঘোষণা দেয়ার পর হোয়াইট হাউজ থেকে এ সতর্ক এলো।
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের কাছে কোনো ধরনের ‘অনিরাপদ' কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।
সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর দিয়ে বিমান উড়ানো বা সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করে ইরানিয়ান স্পিডবোটের কাছাকাছি আসার মতো অনিরাপদ কৌশল তারা সহ্য করবে না।
সেন্টকম আরও বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী, আঞ্চলিক অংশীদার কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজের আশপাশে কোনো অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ সংঘর্ষ, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
ইরানকে সতর্ক করে বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী বাহিনীগুলোর একটি। আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে কাজ করি। ইরানের আইআরজিসিকেও একই মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে গত ২৭ জানুয়ারি হরমুজ প্রণালির কাছে আকাশসীমায় সরাসরি গুলি চালানোর সামরিক কার্যকলাপের ঘোষণা দেয় ইরান।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) শুরু হতে যাওয়া ইরানের ঘোষিত এই নৌ মহড়ায় সরাসরি গোলাবর্ষণ করা হবে। ইরানের দাবি, এই মহড়ার কারণে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কোনোভাবেই ব্যাহত হবে না।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের হুমকির মধ্যে ‘ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক’ আলোচনার জন্য ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তুরস্ক সফরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে ইরানের কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু হুমকির মুখে কোনো আলোচনা হতে পারে না।
আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই ইরানের মিসাইল ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কখনো আলোচনা হবে না।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে অভিযানের পর ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চাপ এই উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন : ৬৫ হাজার ভিসা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার চেয়েও শক্তিশালী নৌবহর ইরানের দিকে যাচ্ছে।’
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফিরতে তেহরানকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘নইলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































