ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প: ফাইল ছবি
রণতরী পাঠিয়ে ইরানকে চাপে রেখে আলোচনার বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, খামেনি প্রশাসনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা চলছে।
সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, ইরান নিয়ে তার সবশেষ চিন্তাভাবনা কী? শুরুতে কোনো জবাব না দিতে চাইলেও পরে তিনি বলেন, আমরা ওই অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক সম্পদ জোরদার করেছি। আশা করি তারা (তেহরান) এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে যা গ্রহণযোগ্য।
এরমধ্যেই, ইসরায়েলের আকাবা উপসাগরের তীরবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর এইলাতে ভিড়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জানায়, এটি পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল চলমান সামরিক সহযোগিতার অংশ।
ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কূটনীতি অগ্রাধিকার হলেও চাপের মুখে আলোচনায় বসবে না তেহরান।
আরও পড়ুন<<>>মিয়ানমারে নির্বাচন চলাকালে বিমান হামলায় নিহত ১৭০: জাতিসংঘ
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে ফোনালাপে পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অঞ্চল কারও স্বার্থে নয়। পাশাপাশি এক জনসভায় ইরানের প্রেসিডেন্ট আবারও দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের জন্য ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, ট্রাম্প হোক, নেতানিয়াহু হোক, কিংবা ইউরোপীয়রা তারা সবাই উসকানি দিতে চেয়েছে, বিভাজন সৃষ্টি করেছে, অস্ত্র জুগিয়েছে। তারা এ স্রোতে বহু নিরীহ মানুষকে টেনে এনেছে, তাদের রাস্তায় নামিয়েছে এবং উসকে দিয়েছে। এ দেশকে টুকরো টুকরো করে জনগণের মধ্যে সংঘাত ও ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করেছে।
ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি বলেছেন, কৌশলগত দিক থেকে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই। তার ভাষায়, ইরান বর্তমানে এমন সামরিক ও প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করেছে, যার মাধ্যমে দেশটি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম।
এদিকে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন ঘাঁটি, জাহাজ ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলার জবাব দেয়া হবে। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই, মধ্য-ফেব্রুয়ারিতে উত্তর ভারত মহাসাগরে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
মহড়ায় ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনী ও ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির নৌ ইউনিটের পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর ইউনিট অংশ নেবে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































