ফাইল ছবি
হাম ছড়ানো শুরু হওয়ার প্রায় সাত মাস পর বাদ পড়া শিশুদের টিকা দিতে আবার বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করছে সরকার। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বনানীর কড়াইল টিএনটি খেলার মাঠে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের ক্যাম্পেইনে বাদপড়া ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেয়া হবে। এ ক্যাম্পেইন চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
তিনি বলেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এ ক্যাম্পেইনে টিকা দেয়া হবে। আরও ১০ লাখ টিকা আমাদের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। এরপরও স্বাভাবিক টিকা কর্মসূচির সঙ্গে এ টিকা দেয়া অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সংক্রমণের এলাকা শনাক্ত করে সব ঝুঁকিপূর্ণ শিশুকে সুরক্ষা দেয়া এবং রোগী থেকে সংক্রমণ ঠেকানোর উদ্যোগ ছাড়া হাম নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে বলে ধারণা করছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা।
এর আগে ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত সারাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি চলে । এসময় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
আরও পড়ুন<<>>বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস আজ
এর আগে, মার্চ মাসের শুরুতে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সাত মাস পরেও হাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
সাত মাসের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর হামে ১ হাজার ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮৩ জন এবং নিশ্চিত হামে ১০১ জন মারা গেছে। এ সময় সারা দেশে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসে। এ সময় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয় ২১ হাজার ১৫ জনের। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রধান উপায় টিকা। আমরা ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে চাই। ইপিআইয়ের মাধ্যমে নিয়মিত টিকাদান চলবে, পাশাপাশি ক্যাম্পেইনও চলবে।
জনস্বাস্থ্যবিদেরা জানান, হাম নিয়ন্ত্রণের মূল লক্ষ্য হতে হবে হাম পরিস্থিতি প্রাদুর্ভাবের পূর্বের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া। প্রাদুর্ভাবের আগের বছর হামে কোনো মৃত্যু ছিল না, এক বছরে আক্রান্ত ছিল মাত্র ১৩২ জন। অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশের জন্য ওই পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
আপন দেশ/জেডআই





































