Apan Desh | আপন দেশ

জাতীয় বিপ্লব-সংহতি দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৮:৪০, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ০৮:৪২, ৭ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় বিপ্লব-সংহতি দিবস আজ

ছবি: আপন দেশ

আজ ০৭ নভেম্বর (শনিবার), ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল।  দিনটি স্মরণে সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

দীর্ঘ একান্ন বছর পরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দিনটিকে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে থাকে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশ যখন চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন ০৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে গৃহবন্দি করা হয়।

এর চার দিন পর ০৭ নভেম্বর সাধারণ সেনা সদস্য ও জনতার অভূতপূর্ব ঐক্যের মাধ্যমে এক পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে। এ ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পরে তিনি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ফিরে আসেন।

আরও পড়ুন<<>>ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের দিন: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনে ০৭ নভেম্বরকে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। দলটির বিশ্বাস, সেদিনের সিপাহি-জনতার ঐক্য দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদী চেতনাকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছিল।

পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার যে ধারা বিকশিত হয়। বিএনপি এ দিনটিকে তারই ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। দলটির নেতাকর্মীদের কাছে দিনটি কেবল অতীত স্মরণের নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাতীয় ঐক্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।

ঐতিহাসিক এ দিবসটি উপলক্ষে ০৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া সকাল ৮টায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও দলীয় নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ কর্মসূচী পালন করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে এদিন বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। ঢাকা মহানগরীর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগর পর্যায়েও অনুরূপ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া রেোববার (০ ৮ নভেম্বর) থানা ও উপজেলা পর্যায়ে নানা কর্মসূচি পালন করবে দলটি। পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন নিজ নিজ উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

০৭ নভেম্বরের এ দিনটি কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জাতির আত্মমর্যাদা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবেই চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

আপন দেশ/জেডআই

 

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়