Apan Desh | আপন দেশ

বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস আজ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১০:৪৬, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস আজ 

ফাইল ছবি

আজ ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস। ২০০৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিনে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় দিবসটি। দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য- সন্তান হবে পরিকল্পিত পরিবারের অংশ, অনাকাঙ্ক্ষিত বোঝা নয়।

এ বছর দিবসটির দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘গর্ভনিরোধের ক্ষেত্রে বাধা নয়, প্রয়োজন ইনফরমড চয়েজ এবং সহজলভ্যতা’ অর্থাৎ প্রত্যেক নারী-পুরুষ যেন নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ও উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেয়ার সুযোগ পান। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে। 

মূলত গর্ভনিরোধের প্রয়োজনীয়তা, সচেতনতা এবং সবার জন্য নিরাপদ ও কার্যকর গর্ভনিরোধের পদ্ধতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উদ্‌যাপিত হয়। এটি কেবল একটি স্বাস্থ্য ইস্যুই নয়, বরং নারীর অধিকার, শিশুর সুস্থ ভবিষ্যৎ, পরিবার পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

গর্ভনিরোধ শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার নয়, এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য স্বাস্থ্য, অধিকার এবং স্বাধীনতার প্রতীক। বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের প্রতিটি স্তরে গর্ভনিরোধের সঠিক ও বৈজ্ঞানিক তথ্য ছড়িয়ে দেয়া, যাতে প্রত্যেকেই নিজের পছন্দ ও শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নিতে পারে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের তথ্য মতে, জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমানে দেশে পিল বা খাবার বড়ি, কপারটি, ইনজেকশন, লাইগেশন, চামড়ার নিচে বসিয়ে দেয়া ক্যাপসুল (ইমপ্ল্যান্ট), কনডম ও ভ্যাসেকটমি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

তবে দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের হার এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। এক্ষেত্রে পুরুষদের অংশগ্রহণ খুবই কম। আর স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরুষদের হার একেবারেই নগণ্য। অস্থায়ী পদ্ধতিতে আগ্রহ থাকলেও স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণও আশানুরূপ নয়। 

আরও পড়ুন<<>>বিশ্ব প্রাথমিক চিকিৎসা দিবস আজ

এর মধ্যে কনডম ও ভ্যাসেকটমি পদ্ধতি ছাড়া বাকি সবই নারীদের জন্য। এসব পদ্ধতির মধ্যে খাবার বড়ির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ২০১৯ সালে পুরুষের জন্য এক ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি মানবদেহের জন্য নিরাপদ প্রমাণিত হয়। ওই সময় আমেরিকার নিউ অর্লিনসে একটি নেতৃস্থানীয় মেডিকেল সম্মেলনে এ কথা ঘোষণা করা হলেও তা আজও বাজারে আসেনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২১.৮ কোটি নারী গর্ভনিরোধের প্রয়োজন অনুভব করেন, কিন্তু তাদের প্রায় ৮.৪ কোটি নারী এখনো কোনো নিরাপদ গর্ভনিরোধ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভাবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ প্রসব এবং মাতৃমৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়। বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস এ বৈষম্য দূর করতে চায়।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা বলেন, ১৯৭৫ সালে দেশে মোট প্রজনন হার (টিএফআর) ছিল ৬.৩। ২০২২ সালে তা ২.১৫-এ নামলেও ২০২৫ সালে বেড়ে ২.৪ হয়েছে। গত দুই বছর অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ থাকায় মাঠ পর্যায়ে প্রচার ও প্রয়োজনীয় সংস্থান সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, বাল্যবিবাহের হার ২৪ শতাংশ। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার ৪৯ শতাংশ এবং এর ৬১ শতাংশের ক্ষেত্রে অনিরাপদ গর্ভপাত ঘটছে। এ অবস্থায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর আগামী নভেম্বর থেকে এক বছরের জন্য ২২ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তরুণ-কিশোর-কিশোরী, নবদম্পতি ও পুরুষদের পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, বস্তিবাসী, ভাসমান ও বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি সেবা, নিয়মিত মজুদ পর্যবেক্ষণ, চাহিদাভিত্তিক সরবরাহ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত পুনর্বণ্টন নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আপন দেশ/জেডআই

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়