Apan Desh | আপন দেশ

কুবিতে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, আহত ১২ 

‎​কুবি প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১০:১৩, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুবিতে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, আহত ১২ 

ছবি : আপন দেশ

‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এতে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল এবং আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। 

এসময় আহত হয়েছেন ১২ শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত অবস্থায় ৭ জনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানায়, এ বড় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় একটি ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে বাংলা বিভাগের হামিদুর রহমান। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মো শাকিল ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তানভির হাসান সাকিব। তাদের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আবিরের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা। এটি বড় আকার ধারণ করলে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাকিব এবং আইসিটি বিভাগের আবিরকে তাৎক্ষণিক প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়। এরপর প্রক্টরিয়াল বডি বিষয়টি সমাধান করে দেয়। 

পরবর্তী এ ঘটনার সূত্রধরে ক্যাম্পাস গেটে মারামারি হয়। এরপর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে ডিপার্টমেন্টে পাঠানো হয়। আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাল্টা ধাওয়া দিলে অপর পক্ষের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল এবং কাজী নজরুল ইসলাম হলে গিয়ে আশ্রয় নেন। 

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের ওপর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠি, বাঁশ দিয়ে হামলা শুরু করে। এরপর ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের শিক্ষার্থীরা ওপর থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ মারামারিতে জড়িয়ে পরে। এতে পুনরায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদ্‌যাপন

একপর্যায়ে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস গেটে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ করে রাখেন। বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

এসময় আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার আহমেদ সরকার আহত হন। তিনি বলেন, যেহেতু প্রক্টর অফিসে সব সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে। সেহেতু আমি আর সামিন ক্যাম্পাস গেটে যাই বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে। সেখানে কয়েকজন আমাদের একপাশে ডাকে। এরপর আমাদের এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে মারতে থাকে। এতে সামিনের হাতের হাড় ভেঙে যায়। আমরা দৌড়ে আমাদের বিভাগের দিকে যাই। ওইসময়ও তারা আমাদের ধাওয়া করছিল। এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে আঘাত করছিল। 

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য বলেন, আইসিটি বিভাগের ১৯ ব্যাচের এক ছেলের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। সেটা প্রক্টর স্যার সমাধান করে ফেলেছেন। পরে ডিপার্টমেন্ট গিয়ে একসঙ্গে হয়ে ওরা আমাদের ধাওয়া দেয়। এরপর হলের ভেতর এসে মেরেছে। আমাদের ৬-৭ জন আহত হয়েছেন। তারপর ওরা হলে ডাইনিং বয়, পাহারাদারকেও মেরেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের প্রধান ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, মারামারির ঘটনায় ১২ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত একজন। মোট সাতজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়েছে। 

প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আমরা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের কথা শুনেছি। তারা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের দোষারোপ করছে৷ বিষয়গুলো আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। সেজন্য আমরা দুইটি কমিটি গঠন করব। প্রথমটা আইটি এক্সপার্টদের নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দোষীদের শনাক্ত করার জন্য। অন্যটি প্রক্টরিয়াল বডি এবং হল প্রধ্যক্ষদের সমন্বয়ে গঠিত হবে। তাদের একটা সময় বেঁধে দেবো। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে যারা দোষী বলে প্রমাণিত হবে। তাদের আমরা আইনের আওতায় আনব।

আপন দেশ/এনএম

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়