ছবি : আপন দেশ
আদালতের আদেশ অমান্য করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মিরপুরের গুদাম চটবাড়ির ৬২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জড়িত রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও তাদের নাম প্রকাশ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার (০৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ আনা হয়।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও মো. আবদুর রহিম ভূঞা জানান, প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তি দখল। আদালতের আদেশ অমান্য। আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করা। এসব অভিযোগের বিষয়ে তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দখল ও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম প্রকাশ করেনি তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ফারইস্ট লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও বলেন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে সম্পত্তির মালিকানা ও রেকর্ড সংরক্ষণ করে আসছে। সম্পত্তির একটি অংশে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সম্পত্তিটি ঘিরে বিরোধ ও দখলের ঘটনা ঘটে।
কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৬০-৭০ জনের একটি দল সম্পত্তির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে সেখানে প্রবেশ করে। এতে সম্পত্তির দখল নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এ ঘটনায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে দখল প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের দাবি, সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের আদেশ অমান্য করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
মামলা না নেয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত সিইও বলেন, মামলা না নেয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থলে গেলেও দখলচেষ্টা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে আরও দুটি জিডি করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে, আদালতের আদেশের পূর্ণ বাস্তবায়ন। সম্পত্তির ওপর দখল ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত। দখল প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া।
এ ছাড়া শাহ আলী থানা পুলিশের ভূমিকা তদন্ত। গ্রাহকদের আমানত, প্রতিষ্ঠানের বৈধ সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে কোম্পানির স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়।
কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত সিইও জানান, তারা কোনো সংঘাত চান না। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পত্তি উদ্ধার এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য। এ বিষয়ে সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
আপন দেশ/কেএম/এনএম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































