বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ছে সোনার দাম। গত এপ্রিলেও আকাশ ছোঁয়া দামে বিক্রি হয়েছে মূল্যবান ধাতুটি। সবশেষ মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববাজারে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৩০০ ডলারে বিক্রি হয়েছে সোনা। এ দর চলতি বছরের প্রথম দিনের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চড়া দামের কারণে শুক্রবার (১০ মে) অক্ষয়া তিথিকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় বৃহত্তম ভোক্তা দেশ ভারতে সোনার চাহিদা অন্যান্য উৎসবের তুলনায় অনেক কম ছিল। যার কারণে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বাধ্য হয়েই নানা অফার দিতে হয়েছে।
মুম্বাইভিত্তিক এক ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেছেন, গত বছর অক্ষয়া তিথির সময়ের চেয়ে সোনার দর এ বছর ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সোনার আকাশ ছোঁয়া এমন দামের কারণে অনেক ভোক্তাই তুলনামূলক কম দামের সোনা বেছে নিয়েছেন। যার ফলে উৎসবের সময়েও গত বছরের তুলনায় এবার স্বর্ণালংকারের চাহিদা অনেক কম ছিল।
ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পৃথ্বীরাজ কোটহারির দাবি, খুচরা ক্রেতারা সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। এ দর বৃদ্ধি তাদের ক্রয় ক্ষমতায় খারাপভাবে প্রভাব ফেলেছে।
আরও পড়ুন>> খোলাবাজার থেকে ডলার ‘উধাও’
এদিকে, ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ২৯০ টন সোনা কিনেছে। এ দৌঁড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩০ টন সোনা কিনেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি সোনা কেনার তালিকায় শীর্ষ দুইয়ে ছিল চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তারা ২৭ টন সোনা কিনেছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামাস ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে সোনা দাম প্রায় ৬০০ ডলার বেড়েছে। গত সপ্তাহে চীনের ডিলাররা বেঞ্চমার্ক স্পট মূল্যের ওপর আউন্স প্রতি ২৬-৩৫ ডলারে প্রিমিয়াম চার্জ করেছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮-২০ ডলার।
আরও পড়ুন>> সোনার দর বাড়ে-কমে কেন?
হংকংভিত্তিক উইং ফাং প্রিসিয়াস মেটালের হেড অব ডিলিং পিটার ফাং বলেন, দাম অনেক বেশি হওয়ায় চাহিদা কিছুটা কম। যদি আউন্সপ্রতি ধাতুটির দর ২ হাজার ২৫০ ডলারে নেমে আসে, তবে ক্রেতারা সোনা কেনায় আগ্রহী হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, মহামারির পর এ বছর সবচেয়ে কম হারে প্রবৃদ্ধি হবে। সেই সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভ নীতি সুদহার কমাবে। এ অবস্থায় পশ্চিমামুখী নয়- এমন দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিপুল পরিমাণ সোনা মজুদ করছে। এ কারণেই মূলত বর্তমানে সোনার দাম আকাশচুম্বী।
আপন দেশ/এসএমএ
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































