ফাইল ছবি
উত্তেজনা কমিয়ে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও বলেছেন, দুই পক্ষের অবস্থান আগের চেয়ে কাছাকাছি এসেছে।
উভয় দেশ একটি খসড়া সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। এ চুক্তির মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আনা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এ চুক্তিতে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা বা উইন্ডো নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছাড় দেয়ার বিষয়ে আলোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। বিনিময়ে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মৌখিক আশ্বাস দিয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে তাদের জব্দকৃত অর্থ দ্রুত ছাড় করার এবং স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>ভাঙছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা। খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে পারে। এর ফলে ইরান পুনরায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রফতানির সুযোগ পাবে। তবে এর বিনিময়ে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ 'হরমুজ প্রণালি' সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রাথমিক সমঝোতাটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও বড় ও স্থায়ী চুক্তির পথ সুগম করবে। বিশেষ করে ইরানের সামগ্রিক পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ সমঝোতার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক ও সচল করা। এ চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































