ছবি : সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তল্লাশির নামে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধকে প্রকাশ্য রাস্তায় চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। পরে তাকে থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। পকেট থেকে টাকা নেয়ার পাশাপাশি পরিবারের কাছ থেকে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযুক্ত এসআই মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি কালিহাতী থানার বল্লা ইউনিয়ন বিটে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী আ. ছালাম এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করছেন সহকারী পুলিশ সুপার (কালিহাতী সার্কেল) মো. মঞ্জুরুল ইসলাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত আগস্ট বিকেলে বল্লা বাজারের মেইন রোডে দাঁড়িয়ে ছিলেন আ. ছালাম। তিনি বল্লা চকপাড়া গ্রামের মৃত লেবু মিয়ার ছেলে।
এসময় এসআই আসাদুজ্জামান অপর এক পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। তারা ছালামকে তল্লাশি করতে চান। ছালাম নিজের কাছে অবৈধ কিছু নেই বলে জানান।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ। পরে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, থানার দোতলায় ছালামকে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়। তাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়।
একপর্যায়ে প্রাণভয়ে ছালাম নিজের কাছে ‘দুই পুরিয়া গাঁজা’ থাকার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর তার পকেটে থাকা ১৯ হাজার ৫০০ টাকা নেয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে আরও ২৬ হাজার টাকা নেয়া হয়।
সব মিলিয়ে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা দেয়া হলেও ছালামকে মুক্তি দেয়া হয়নি বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরদিন ৩ আগস্ট তাকে এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১৫ দিনের সাজা দেয়া হয় বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন <<>>
১৫ দিন কারাভোগের পর গত ১৮ আগস্ট তিনি মুক্তি পান। এরপর পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দেরও এসআই আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, বল্লা ইউনিয়ন বিটের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগও করেছেন তারা।
এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী পরিবার এসআই আসাদুজ্জামানের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (কালিহাতী সার্কেল) মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন দেয়া হবে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































