Apan Desh | আপন দেশ

 টাঙ্গাইল মহাসড়কে ছয় মাসে গেল ১৩০ প্রাণ, রেলে ১৮

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:৩১, ৯ জুলাই ২০২৬

 টাঙ্গাইল মহাসড়কে ছয় মাসে গেল ১৩০ প্রাণ, রেলে ১৮

ফাইল ছবি, আপন দেশ

যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও চালকদের মাত্রাতিরিক্ত ওভারটেকিং, সার্ভিসলেন আটকে রাখায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। 

গত ছয় মাসে এ মহাসড়কে একের পর এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঝরে গেছে ১৩০তাজা প্রাণ। একই সময়ে ১০৮ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮৩ জন।  রেল লাইনের টাঙ্গাইল অংশে ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছে আরও ১৮ জন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে মহাসড়কে দুর্ঘটনার তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। মে মাসেই সর্বোচ্চ ৩৯ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৫ মে দুপুরে কালিহাতী উপজেলায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একটি ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়, আহত হয় নয়জন। নিহতদের মধ্যে নয়জনের বাড়িই ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারসো ইউনিয়নে। এছাড়া জানুয়ারি মাসে ১২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬ জন, মার্চে ২৩ জন, এপ্রিলে ২৪ জন এবং জুন মাসে ১৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে জানুয়ারিতে নয়জন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে সাতজন, এপ্রিলে ১৮ জন এবং জুনে ছয়জন রয়েছেন।

অপরদিকে, মহাসড়কের পাশাপাশি অরক্ষিত রেলপথেও বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। গত ছয় মাসে টাঙ্গাইলে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে একজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মার্চে আটজন, এপ্রিলে দুজন এবং মে মাসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জুন মাসে কোনো ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল পুলিশ স্টেশনের মুন্সি আবুল বাশার।

এদিকে, দুর্ঘটনা পরবর্তী সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। গত ছয় মাসে মোট ৫২ জন ক্ষতিগ্রস্ত বা তাদের পরিবারকে চেকের মাধ্যমে মোট দুই কোটি ১৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। 

আরও পড়ুন<<>>পাহাড়ে ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে বাড়ি দেবে সরকার

মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রহিম, রাফসান জামিল, আরমান শেখ, সাইফুল্লাহ সহ অনেকেই জানান, যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা। মহাসড়কের যে অংশে সার্ভিস লেন আছে, সেখানে বিভিন্ন যানবাহন রেখে আটকে রাখা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়কে উঠে যাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত এখনো কোনো সার্ভিস লেন নেই। মহাসড়কের দুই পাশে বালুর স্তূপ থাকায় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রবল। দুই পাশের বালুর স্তূপ সরিয়ে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।  

টাঙ্গাইলের বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির আহবায়ক শফিকুল ইসলাম খান শফিক জানান, মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনের দুর্ঘটনার হার বেশি। দুর্ঘটনার জন্য উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলোর বেপরোয়া গতিকে দায়ী করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, অদক্ষ চালক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলো পরিচালিত হয়। 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা হচ্ছে। এতে প্রাণহানিও ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ অংশীজনদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তারা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করে থাকেন। 

টাঙ্গাইলের এএসপি (প্রশাসন) রবিউল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য প্রথমত চালককে সচেতন থাকতে হবে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বাঁক রয়েছে। বাঁকগুলোতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা ঘটবেই। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিরোধে নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।

তিনি জানান, সার্ভিস লেন থেকে মহাসড়কে ওঠে অনেক মোটরসাইকেল চালকেরা গাড়ি চালাচ্ছেন। সেটা থেকে তাদেরকে বিরত থাকতে হবে এবং অতিরিক্ত গতি থেকে সরে আসতে হবে। এছাড়া দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ হলো ওভারটেক করা। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানান তিনি।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়