ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু
পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে বাড়ি বানিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
সরকারি এ উদ্যোগে সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপিদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম দিন ৩০০ বিধিতে দেয়া বিবৃতিতে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় ধসের কারণে বেশকিছু প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে পাঁচজন, কক্সবাজারে ১৯ জন, রাঙ্গামাটিতে একজন এবং বান্দরবানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ এ পরিস্থিতিতে দ্রুত ওই এলাকাতে ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে আশ্রিত লোকজনের জন্য সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, শিশু খাদ্য এবং তিনবেলা খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসার জন্য মাঠপর্যায়ে মাইকিং অব্যাহত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনকে কেপিআই ঘোষণা
মন্ত্রী আরও জানান, মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) দুর্গত এলাকার সাহায্যের জন্য প্রথম দফায় প্রতিটি জেলায় ১০ লাখ টাকা জিআর ক্যাশ এবং ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো। পরিস্থিতির বিবেচনায় মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে চট্টগ্রামে ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে প্রতিটি জেলায় ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রণালয়ের সচিব সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে অবস্থান করছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মন্ত্রী বলেন, সংসদ অধিবেশন মূলতবি থাকায় পাহাড়ি অঞ্চলের এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করার অনুরোধ জানাচ্ছি। পাহাড়ের নিচে বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রতি বছর যে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা প্রয়োজন। সরকারের হাতে অনেক পরিত্যক্ত খাস জমি এবং আবাসন মন্ত্রণালয়ের জমি রয়েছে। এমপিরা যদি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করে ভূমিকা রাখেন, তবে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সেসব নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসন ও বাড়ি বানিয়ে দিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভবিষ্যতে যাতে পাহাড় ধসে আর একটিও প্রাণহানি না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানান।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































