ছবি: আপন দেশ
গাইবান্ধা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু। তাকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব সাদেক আহমেদের স্বাক্ষরে সাত সদস্যের গাইবান্ধা জেলা ইউনিট কমিটি গঠন করা হয়। এতে আশরাফুল ইসলাম রঞ্জুকে আহবায়ক করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্র বলছে, আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০২২ সালের ১১ জুন অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিলে তিনি সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। ওই কমিটিতে পাঁচজন সহ-সভাপতির মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। একই কমিটির আরেক সহ-সভাপতি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশীদ জাহান স্মৃতি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এমদাদুল হক বাবলু দাবি করেন, আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন <<>> সেন্টমার্টিনের গভীর সমুদ্র থেকে নারী-শিশুসহ উদ্ধার ১৫৩
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নও চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু। তিনি বলেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে নিজের নাম দেখে বিস্মিত হয়ে একদিনের মধ্যেই পদত্যাগ করেন। তার দাবি, তিনি বা তার পরিবারের কেউ কখনও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তার দাদা মরহুম আজিজল হক কেন্দ্রীয় ন্যাপের সহ-সভাপতি ছিলেন বলেও জানান তিনি।
ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করে রঞ্জু বলেন, তাদের মধ্যে কেবল ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল। সকালে হাঁটার সময় দেখা হতো।
তিনি আরও জানান, তিনি রংপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচিত ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন। আসামের গোয়ালপাড়া জেলার তেজপুর ট্রেনিং সেন্টারে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন এবং ৬ নম্বর সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ডের সদস্য সচিব সাদেক আহমেদ বলেন, কেউ আওয়ামী লীগের নেতা হলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কমান্ডের আহবায়ক নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন কি না তা যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে তাকে ডেকে বিষয়টি শোনা হবে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































