ছবি: আপন দেশ
বিক্ষোভের মুখে ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলম প্রধান কার্যালয়ে যোগ দিতে পারেননি। এমনকি অনলাইনে বোর্ড সভায় অংশ নেয়ার উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
সোমবার (০১ জুন) ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ করে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই বিক্ষোভ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করতে দেখা যায় পুলিশকে। একই সঙ্গে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশের বাধা না দেয়ার অনুরোধ করা হলে পুলিশ শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেয়।
এরপর থেকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনের রাস্তাজুড়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করতে দেখা যায়।
তবে ব্যাংকে চেয়ারম্যানের যোগদানের উদ্দেশে গত ২৪ মে’র স্থগিত বোর্ড সভা সোমবার ভার্চুয়ালি করার একটি উদ্যোগ নেন ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আলতাফ হুসাইন। কিন্তু ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের প্রতিবাদের মুখে সে ভার্চুয়াল বোর্ড মিটিংও করতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত এমডি। এক পর্যায়ে ব্যাংকের বোর্ডরুমে তালা লাগিয়ে দেন ব্যাংকটির কর্মীরা। ফলে প্রথম দিন ইসলামী ব্যাংকে যোগ দিতে পারলেন না খুরশীদ আলম।
আরও পড়ুন <<>> ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আইনগত বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত: বাংলাদেশ ব্যাংক
এদিকে ব্যাংকটির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইসলামী ব্যাংকের সামনে পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
আন্দোলনকারীরা এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে (এস আলম) ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। একই সঙ্গে পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
এছাড়া ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যান পদে খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেয়ায় গভর্নরের পদত্যাগ দাবি করেন।
তাদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলমের দোসর। তাকে নিয়োগ দেয়ার কারণে ব্যাংকে আবার লুটপাট হবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ার পর পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খাঁনকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বিক্ষোভের মধ্যেই জুবায়দুরেরও পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। রাতে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়ে খুরশীদ আলমসহ চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।
এছাড়া চাকরি জীবনেও খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তার কিছু সহকর্মী। বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (বর্তমানে পরিচালক পদ) থাকাকালে তার গৃহীত ছাদবাগান কর্মসূচিকে ঘিরে ওই অভিযোগ তোলা হয়।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে যেসব আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে, সেসবের তদন্ত অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ওই তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভিযোগের সত্যতা পায়নি। ফলে জেনারেল ম্যানেজার (বর্তমানে পরিচালক পদ) থেকে ধাপে ধাপে নির্বাহী পরিচালক এবং ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ পান খুরশীদ আলম।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ইসলামী ব্যাংক পুনর্গঠন করা হয়। এস আলমের প্রায় ৮৩ শতাংশ শেয়ার ব্লক করে রাখা হয়। ব্যাংকটিকে এস আলমমুক্ত করতে গেলে ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনার সময় ২০১৭ সালের আগে ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এর পরে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































