Apan Desh | আপন দেশ

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আইনগত বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত: বাংলাদেশ ব্যাংক 

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৭:৩২, ১ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৭:৫৩, ১ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আইনগত বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত: বাংলাদেশ ব্যাংক 

ফাইল ছবি, আপন দেশ

আন্দোলনে নয়, ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে আইনগত বিধান মেনেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

তিনি বলেন, ব্যাংকের কোনো সিদ্ধান্তই রাস্তার কোনো আন্দোলনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না। যে কোনো ইস্যুতে যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির বিক্ষোভ প্রদর্শন বা মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেয়ারও এখতিয়ার আছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (০১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও আছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, চাপ বা আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও আইনগত বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে একজন ব্যক্তির তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণ থাকার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী খেলাপি অবস্থায় কারও পরিচালক পদে থাকার সুযোগ নেই। নিয়োগের আগে এসব বিষয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক। 

আরও পড়ুন<<>>ইসলামী ব্যাংকের সামনে পুলিশ-গ্রাহক মুখোমুখি, টিআরশেল নিক্ষেপ

ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এ মুখপাত্র বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ব্যাংকের বোর্ড সভা সরাসরি না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম (জুমে) আয়োজনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ভবনের বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের সময় কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি গভর্নরকে জানাতে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে গভর্নর নিজেই বিষয়টি মোকাবিলা করবেন।

আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। কোনো ব্যাংক যদি একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তাহলে তা ব্যাংকটির স্থায়িত্ব ও টেকসই পরিচালনার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিক্ষোভ ও কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যালোচনা করছে কোনো ব্যাংক বিশেষ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সংকটে পরিণত হচ্ছে কি না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, কোনো ব্যাংকই কোনো রাজনৈতিক দলের হতে পারে না এবং রাজনৈতিক পরিচয় একটি ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়