Apan Desh | আপন দেশ

ঈদে কোন দেশে কী পশু কোরবানি দেয়া হয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২৩:৫১, ২৬ মে ২০২৬

আপডেট: ২৩:৫২, ২৬ মে ২০২৬

ঈদে কোন দেশে কী পশু কোরবানি দেয়া হয়

ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিমদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। এটি কোরবানির ঈদ নামেও পরিচিত। প্রতিবছর আরবি বর্ষপঞ্জির জিলহজ মাসের ১০ তারিখে এ উৎসব উদযাপিত হয়।

এ দিনে মুসলিমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে পশু কোরবানি করেন। ফজরের নামাজের পর ঈদগাহে জামাতে ঈদের নামাজ আদায় শেষে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারিত পশু কোরবানি দেয়া হয়।

তবে দেশ, সংস্কৃতি ও অঞ্চলের ভিন্নতার কারণে কোরবানির ধরনেও কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও গরু ও ছাগল বেশি জনপ্রিয়। আবার কোথাও ভেড়া, মহিষ কিংবা উটই প্রধান কোরবানির পশু হিসেবে পরিচিত।

মধ্যপ্রাচ্যে: বিশ্বের বড় মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করে। বিশেষ করে সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কারণ, ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হজ পালনের জন্য বিশ্বের লাখো মুসলিম সেখানে সমবেত হন।

হজের শেষ দিনে কোরবানি দেয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় সৌদি আরবে কোরবানির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। সেখানে উটের পাশাপাশি দুম্বা, ভেড়া, গরু ও ছাগল কোরবানি দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক অনুযায়ী, হজ মৌসুমে সৌদি আরবে উট ও গরুর দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত–এও একই ধরনের চিত্র দেখা যায়। সেখানে আমদানি করা গরু ও ছাগলের চাহিদা বেশি। কিছু বিত্তশালী পরিবার উট কোরবানি দেন। বেশিরভাগ কোরবানি নির্ধারিত স্থানে সম্পন্ন করা হয়।

পাকিস্তান: পাকিস্তানে প্রায় ২৪ কোটি মুসলিম বাস করেন। দেশটিতে কোরবানির জন্য গরু ও ছাগল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

পাকিস্তান ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের বরাতে জানিয়েছিল, ২০২৩ সালে দেশটিতে ৬০ লাখের বেশি পশু কোরবানি করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ছাগল।

এছাড়া মহিষ, দুম্বা, ভেড়া ও উটও কোরবানি দেয়া হয়। তবে সংখ্যায় সেগুলো কম। শীতপ্রধান অঞ্চলে চর্বিযুক্ত মাংসের কারণে দুম্বার জনপ্রিয়তা বেশি।

সেখানে নির্দিষ্ট কোরবানির স্থান থাকলেও অনেকেই বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে ঐতিহ্যগতভাবে কোরবানি দেন।

ভারত: ভারতের মুসলিমরা সংখ্যালঘু হলেও সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। তবে দেশটিতে গরু কোরবানি নিয়ে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

কারণ, হিন্দুধর্মে গোহত্যা নিষিদ্ধ। এ কারণে ভারতের মুসলিমরা মূলত ছাগল ও মহিষ কোরবানি দেন। কিছু রাজ্যে গরু জবাই বৈধ হলেও অধিকাংশ স্থানে এটি বেআইনি।

কেরালা, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরাসহ কয়েকটি অঞ্চলে গরু জবাই বৈধ।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, কিছু রাজ্যে গরু কোরবানি করলে সাত বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

ভারতে বর্তমানে ছাগল ও মহিষের চাহিদা বেশি। কারণ, মহিষ তুলনামূলক সস্তা এবং এক পশুতে সাতজন শরিক হতে পারেন।

ইন্দোনেশিয়া: ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশগুলোর একটি। সেখানে গরু ও ছাগলই সবচেয়ে বেশি কোরবানি দেয়া হয়।

দেশটির নাগরিক বেটি হারলিনা জানান, সেখানে উট বা ভেড়া তেমন নেই। তাই গরু ও ছাগলের প্রচলন বেশি।

এলাকাভেদে মাংস বণ্টনের ধরনও ভিন্ন। কোথাও আত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। আবার কোথাও গরিব ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বেশি বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুন <<>> অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

তুরস্ক: তুরস্কে ঈদুল আজহাকে ‘কুরবান বায়রামি’ বলা হয়। দেশটির অধিকাংশ মানুষ মুসলিম হওয়ায় সেখানে ব্যাপকভাবে কোরবানি পালিত হয়।

তুরস্কে সাধারণত গরু, ছাগল ও ভেড়া কোরবানি দেয়া হয়। তবে বেশিরভাগ মানুষ বাড়ির পরিবর্তে কসাইখানায় কোরবানি দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করার রীতি সেখানে কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এক ভাগ পরিবার, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন এবং এক ভাগ দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়।

বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা দরিদ্রদের ঘরে ঘরে মাংস পৌঁছে দেয়ার কাজও করে থাকে।

নাইজেরিয়া: নাইজেরিয়ায় ঈদুল আজহাকে ‘ঈদুল কাবির’ বলা হয়। দেশটিতে কোরবানির জন্য ভেড়াই সবচেয়ে জনপ্রিয় পশু।

জানা যায়, অনেকেই গরু বা উট কোরবানি দিলেও অধিকাংশ মানুষ ভেড়াকেই বেছে নেন।

সেখানে ঈদের নামাজ শেষে মানুষ ভেড়া, ছাগল, গরু বা উট কোরবানি দেন। পরে মাংস ভাগ করে ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

বাংলাদেশ: বাংলাদেশে কোরবানির জন্য সবচেয়ে বেশি পছন্দ করা হয় গরু। এরপর রয়েছে ছাগল। কিছু এলাকায় মহিষও কোরবানি দেয়া হয়। তবে উট ও ভেড়ার সংখ্যা খুবই কম।

শহরাঞ্চলে নির্দিষ্ট কোরবানির স্থান থাকলেও অধিকাংশ মানুষ বাড়ির আঙিনা বা রাস্তার পাশেই কোরবানি দেন।

বাংলাদেশে কোরবানির পশুর নামকরণও এক ধরনের জনপ্রিয় সংস্কৃতি। আগে গায়ের রঙ অনুযায়ী গরুর নাম রাখা হতো। যেমন লালু, লালি বা লালটু। এখন অনেকেই পশুর নাম রাখেন নবাব, বাহাদুর, সম্রাট কিংবা জনপ্রিয় তারকাদের নামে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে নাম রাখা একটি গোলাপি মহিষ আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচনায় আসে।

বাংলাদেশেও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করে বিতরণ করা হয়।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়