ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুর জেলার কুশাখালী ইউনিয়নের গোরারবাগ গ্রামের বাসিন্দা ইয়াসমিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ইয়াসমিনের মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের বাসিন্দা শাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত ইয়াসমিনের ভাই, কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিকও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে ফোর্ট মায়ার্সের একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরের সামনে ইয়াসমিনের ওপর হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে ফোর্ট মায়ার্স ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও লি কাউন্টি ইএমএস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ রোবার্ট জোয়াসিন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে দোকানের সামনে পার্ক করা একটি কালো গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করছেন। পরে ইয়াসমিন দোকান থেকে বের হলে তিনি তার ঘাড়ে আঘাত করেন। ইয়াসমিন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং হামলাকারী তার মাথায় একাধিক আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
শাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের কে-৯ ইউনিট ও শেরিফের এভিয়েশন ইউনিট ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের তিনটি স্কুল সাময়িকভাবে লকডাউন করা হয়। প্রথমে সন্দেহভাজন পালিয়ে গেলে পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। প্রাথমিক ধারণা, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বের একটি অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং সন্দেহভাজনকে দেখলে ৯১১-এ ফোন করার নির্দেশ দেয়া হয়। বিকেলের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন <<>>লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ১৭৫ বাংলাদেশি
নিহত ইয়াসমিন, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই মেয়েকে নিয়ে ফোর্ট মায়ার্সে বসবাস করছিলেন। তিনি ছয় মাস আগে দোকানটিতে কাজ শুরু করেন।
দোকান মালিক আরিফ বলেন, ভোরে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে ফজরের নামাজ পড়ছিলেন ইয়াসমিন। তখন হামলাকারী ডিঅ্যান্ডডি কনভেনিয়েন্স স্টোরের পার্কে থাকা একটি জিপের কাঁচ হাতুড়ি দিয়ে ভাঙতে শুরু করেন। ইয়াসমিন দরজা খুলে বাইরে এসে জানতে চাইলে, কী সমস্যা, এমন করছেন কেন? এর পরই তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও কয়েকবার আঘাত চালানো হয়। পরে পুলিশ এসে দেখে তিনি বেঁচে নেই।
তিনি বলেন, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দোকানটি ভাড়া দিচ্ছেন, আগে কখনও এমন নৃশংস ঘটনা ঘটেনি। এলাকাটি শান্তিপ্রিয় হওয়ায় সকলেই হতভম্ব এ হত্যাকাণ্ডে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































