ছবি: বাফুফে
চলমান ফিফা আসিয়ান কাপে যাত্রাটা মোটেও ভাল হয়নি বাংলাদেশের। অভিষেক ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে শুরুতেই ব্যাকফুটে হামজা চৌধুরীম জামাল ভূঁইয়ারা। দ্বিতীয় ম্যাচে লাল সবুজ দলের সামনে সিঙ্গাপুর। যারা ইন্দোনেশিয়ার কাছে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে। তাই উভয় দলের জন্য এ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই।
সে দিকে লক্ষ্য রেখেই সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বেলা ৩টায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর। ম্যাচ দেখাবে টি স্পোর্টস ও টফি।
প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে সিঙ্গাপুর হেরেছে ২-০ গোলে। একইভাবে বাংলাদেশও মালয়েশিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে ৩-০ গোলে।
তবে সে ফল নিয়ে বেশি না ভেবে নিজেদের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে মনোযোগ দিতে চান সিঙ্গাপুর কোচ গ্যাভিন লি। তার মতে, দলের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা বিষয়গুলোতেই গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
গ্যাভিন লি ম্যাচের আগে বলেছেন, আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্স। সাধারণত আমরা যখন ভালো পারফরম্যান্স করি, তখন ফলও আসে। তাই আমাদের ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং আমরা যে ধরনের পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম, সেটাই মাঠে দেখাতে হবে।
সিঙ্গাপুরের কাছে বাংলাদেশ অপরিচিত প্রতিপক্ষ নয়। সাম্প্রতিক এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ঘরের মাঠ ও বাংলাদেশের মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সর্বশেষ গত মার্চে সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে ৩০ হাজার ১০৫ দর্শকের সামনে বাংলাদেশকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল সিঙ্গাপুর। একমাত্র গোলটি করেছিলেন হারহিস স্টুয়ার্ট।
আরও পড়ুন<<>>ভাষা বিড়ম্বনায় শুকির বাংলাদেশ অধ্যায় শুরু
অন্যদিকে, ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮২। তার ওপর ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরে শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলা হামজা চৌধুরীকে ঘিরে বাংলাদেশের আক্রমণভাগও আশাবাদী।
নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে র্যাংকি ১৪৮ নম্বরে থাকা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প দেখেন না কোচ থমাস ডুলিও। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে তিন পয়েন্টই লক্ষ্য বাংলাদেশের। আর সেই লক্ষ্যে দলের বাকি খেলোয়াড়দের হামজা চৌধুরী ও রাকিব হোসেনকে অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তিন পয়েন্ট পেতে দলের অন্যদের হামজা ও রাকিবের লড়াইয়ের মানসিকতা অনুসরণ করতে বলেছেন কোচ ডুলি। বিশেষ করে বলের জন্য তাদের আগ্রাসনকে উদাহরণ হিসেবে সামনে এনেছেন তিনি।
ডুলির ভাষায়, আমি খেলোয়াড়দের বলেছি, অ্যাটিটিউড বা মাইন্ডসেট বলতে কী বোঝায় সেটা যদি না বোঝো, তাহলে হামজা যখন ওয়ান-অন-ওয়ান লড়াইয়ে যায়, তখন দেখো সে কীভাবে ডিফেন্ড করে। ডিফেন্ড করার সময় তার শরীরী ভাষা কেমন, সেটা দেখো। রাকিব যখন বলের দিকে যায়, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে যায়, তখন সে কতটা পরিশ্রম করে, সেটা দেখো। এটা অসাধারণ।
তবে মাঠে সহজ ভুল করার মানসিকতা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলে সতর্ক করেছেন ডুলি। তিনি বলেন, আর যদি দেখি কেউ শুধু মাঠে হাঁটছে, কোনও চাপ ছাড়াই ভুল করছে, অথবা চারপাশ স্ক্যান করছে না, তাহলে সেটা মেনে নেয়া কঠিন। আমরা গত তিন-চার সপ্তাহ ধরে, তারও আগে কয়েক মাস ধরে, বারবার বলে আসছি, মাঠ স্ক্যান করতে হবে, একে অপরের সঙ্গে ফুটবল খেলতে হবে। কিন্তু শেষ ম্যাচে আমরা সেটা দেখিনি।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































