ছবি: আপন দেশ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্ক সফর ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। বাবা ও মায়ের পর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তিনি।
এর আগে তার পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালসহ বিভিন্ন সময়ে এই অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন বিমানবন্দরে ও জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে সুশৃঙ্খল স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যে ৩৪টি প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নব গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক শান্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।
বিশেষ করে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দিয়ে তাদের মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনে বৈশ্বিক সমর্থনের আহবান জানাবেন তিনি।
আরও পড়ুন : জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ক্ষতিপূরণ ও অর্থায়নের দাবিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।
সফরকালে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের সঙ্গে বৈশ্বিক অসমতা দূর করার জন্য বৈঠক এবং মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য বিষয়ক নিজস্ব সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের এই সফরকালে বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি কুয়েতের যুবরাজ, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
একই সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং শরণার্থী ও মানবাধিকার কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।
কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি মেটা ও ওয়াল স্ট্রিটের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, প্রযুক্তি খাত ও তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি এসব আলোচনায় উপস্থাপন করা হবে।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সফর শেষ করে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
উল্লেখ্য, এবারের অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় সফরটি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি মর্যাদা বহন করছে।
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































