Apan Desh | আপন দেশ

মেঘনা গ্রুপের ৪১০ কোটি টাকার ঋণপত্র বাতিলের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ০০:৫৯, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেঘনা গ্রুপের ৪১০ কোটি টাকার ঋণপত্র বাতিলের নির্দেশ

ফাইল ছবি

মেঘনা গ্রুপের প্রায় ৪১০ কোটি টাকা ঋণপত্র (এলসি) বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিজের মালিকানাধীন জাহাজ নতুন করে আমদানির নামে অর্থপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশ দিয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অনুসন্ধানে বিষয়টি উঠে আসার পর মেঘনা ব্যাংককে এ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থপাচারের বিষয়টি নিয়ে বিএফআইইউ, মেঘনা ব্যাংক ও মেঘনা গ্রুপের মধ্যে সভা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এরপরই ঋণপত্রটি বাতিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মেঘনা ব্যাংকের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা ঋণপত্রটি বাতিল করার জন্য মেঘনা গ্রুপকে নির্দেশ দিয়েছে। তাদের সম্মতি পেলেই বাতিল করা হবে।

তিনি আরও জানান, এ জাহাজ মেঘনা ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আনতে না পারলেও অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মেঘনা গ্রুপ। ফলে প্রকৃতপক্ষে অর্থপাচার রোধ হলো কিনা, সেই প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন <<>> ঋণশোধে বিদেশি মুদ্রা কোথায় পাবে মেঘনা গ্রুপ?

বিএফআইইউর তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ মেঘনা ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে ‘এমভি মেঘনা পার্ল’ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার আমদানির উদ্দেশে ৩২৫২২৬০১০২২০ নম্বরের এলসি অনুমোদন করা হয়। এলসিতে রফতানিকারক ও মূল সুবিধাভোগী হিসেবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ‘মেঘনা ট্রেড অ্যান্ড কমার্স পিটিই লিমিটেড’-এর নাম ব্যবহার করা হয়।

তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা লয়েড’স লিস্ট ইন্টেলিজেন্স, মে ইন্টারন্যাশনাল ও আইএমবির নথি পর্যালোচনা করে বিএফআইইউ দেখেছে, এলসি খোলার অনেক আগে থেকেই জাহাজটির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রক ছিল মেঘনা গ্রুপ।

লয়েড’সের তথ্য অনুযায়ী, পানামায় নিবন্ধিত ‘সিএমবি ব্রুয়েগেল’ নামের জাহাজটি ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকেই মেঘনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনিক সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনায় ছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে এটি বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ হিসেবে চলাচল শুরু করে। ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মেঘনা পার্ল’।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশে কোম্পানি খোলা হয়। এছাড়া নিজের কেনা জাহাজই নিজের অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন করে আমদানি দেখানো হয়। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঋণপত্র খোলার পেছনে স্পষ্টত অর্থপাচারের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছে বিএফআইইউ ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার আগুনে নিহত ৭ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল লিটারে ২০ টাকা পুলিশ হেফাজতে গাজী নজরুলসহ প্রথম স্ত্রী কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনে আগুন সংবিধান সংশোধনের খসড়া প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সোমবার, সঙ্গী ৩৫ জন আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: এসপি শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১০ ডিসেম্বর ভারত সীমান্তে মিলল নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ ককটেল বিস্ফোরণে নিষিদ্ধ আ.লীগ জড়িত: ডিএমপি সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চাই: গোলাম পরওয়ার মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত তুরস্ক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
City Touch