Apan Desh | আপন দেশ

বাঁশের ভেলায় ভেসে আটরশি দরবারে ভক্তরা

ফরিদপুর প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:৪৮, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১২:৫০, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাঁশের ভেলায় ভেসে আটরশি দরবারে ভক্তরা

ছবি: আপন দেশ

ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের আটরশি দরবার শরীফে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বাঁশের ভেলা নিয়ে যাত্রা করেছেন হাজারো আশেকান-জাকেরান ভক্ত। ভক্তদের বিশ্বাস, হুজুরের নির্দেশ পালন করে তার নৈকট্য লাভ করা গেলে বেহেশত লাভ করা সম্ভব। সে প্রত্যাশা থেকেই পরিবার-পরিজন ছেড়ে দিনরাত পরিশ্রম করে বাঁশের ভেলা নিয়ে তারা ছুটছেন দরবার শরীফের উদ্দেশে।

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের লাখ লাখ ভক্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও দেশের বাইরেও ছড়িয়ে রয়েছেন। তাদের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের অপেক্ষাকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও রয়েছে। হুজুরের জীবদ্দশায় ওই অঞ্চলের ভক্তদের আর্থিক দৈন্যতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাঁশ নজরানা হিসেবে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

ওই নির্দেশের পর ১৯৭৫ সালে কুড়িগ্রাম জেলার অলিপুরের নুরুল ইসলাম ও তসলিম উদ্দিন প্রধানের নেতৃত্বে দুটি বাঁশের ভেলা নিয়ে প্রথমবার যাত্রা শুরু হয়। এরপর প্রতিবছর এর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে কয়েক হাজার বাঁশের বেলা এ যাত্রায় অংশ নেয়।

প্রতিটি ভেলা ১৫ থেকে ৩০ জন ভক্ত অংশ নেন। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব ভেলা নিয়ে দরবার শরীফে পৌঁছাতে তাদের সময় লাগে সাত থেকে ১৫ দিন। এ পুরো সময় নদীর বুকে ভেলার ওপরই চলে তাঁদের রান্নাবান্না, নামাজ, জিকির-আজকারসহ দৈনন্দিন নানা কাজ। কখনো কখনো প্রকৃতির ডাকেও সেখানেই সাড়া দিতে হয়। সব মিলিয়ে কয়েক দিনের জন্য নদীর বুকেই যেন তাদের বসবাস।

ভক্তরা জানান, দীর্ঘ এ যাত্রাপথে তাদের মধ্যে কোনো হিংসা বা বিভেদ থাকে না। সবার লক্ষ্য একটাই—হুজুর কেবলাজানের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা এবং তার নৈকট্য লাভ করা।

আরও পড়ুন<<>>চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় মেডিকেল ক্যাম্প

কুড়িগ্রাম জেলার নুরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এভাবেই বাঁশের বেলা নিয়ে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে হুজুরের দরবারে পৌঁছে দেন। দরবার শরীফের হুজুরের নির্দেশেই তারা এ কাজ করছেন। ভক্তদের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে হুজুর বাঁশ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার নির্দেশ পালন করলেই নৈকট্য লাভ করা যাবে এবং এর মাধ্যমে বেহেশত লাভের প্রত্যাশা করেন তারা।

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের খাদেম মো. শাহা জালাল ভুঁইয়া রুমন বলেন, অনাবিল সুখ ও শান্তির আশায় বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ভক্তরা প্রতিবছরের মতো এবারও হাজার হাজার ভুর নিয়ে দরবার শরীফে সমবেত হচ্ছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য—হুজুর কেবলাজানকে খুশি করা।

উল্লেখ্য, হুজুর কেবলাজানের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিবছর আশ্বিন মাসের প্রথম বুধবার দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ভক্তরা হাজার হাজার বাঁশ নিয়ে আটরশি বিশ্ব দরবার শরীফে সমবেত হন। এসব বাঁশ আগামী বছরের মহাপবিত্র ওরস উপলক্ষে লাখ লাখ আশেকান-জাকেরানের বাসস্থান, প্যান্ডেল নির্মাণ, রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হবে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়