ফাইল ছবি
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রেফতার মোট ১০ আসামিকে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারে আদেশে তাদের কারাগারে পাঠানোর হয়।
আসামিরা হলেন-শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, শাহ আলম, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম এবং শাকিল। এছাড়া শনিবারে কারাগারে পাঠানো হয় আরও চার আসামিকে। তারা হলেন মো. সোহেল, মো. জুয়েল, মো. জিহাদ হাসান ও মো. রাব্বি।
এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহআলী থানার উপপরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমান তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
অপরপক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ এমরান। একইসঙ্গে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আবেদন করেন জামিন শুনানিরও।
পরে জামিন না মঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে জামিন শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন। এর আগে এ মামলায় শনিবার আসামি মো. সোহেল, মো. জুয়েল, মো. জিহাদ হাসান ও মো. রাব্বিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শাহ আলী থানা এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করেন।
তারা সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্বরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আবদুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে আটকে রাখেন। এরপর হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।
আরও পড়ুন <<>> রাড্ডার ঘটনায় ওসির দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হামলাকারী ব্যক্তিরা প্রথমে প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমি পাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলেন। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এরপর পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেয়ার আরেকটি সেমি পাকা ঘর ও আসবাব ভাঙচুর করা হয়, যাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় চার লাখ টাকা।
তাণ্ডব চালিয়ে ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের সেমি পাকা ঘর এবং সেখানকার আসবাব ও চিকিৎসাসামগ্রী ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায় ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষতি করা হয় আরও প্রায় ২০ লাখ টাকার।
সবশেষে আলট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরির পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।
ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি থেকে দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, তিনটি স্টিলের আলমারি এবং বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়ন হামলাকারী ব্যক্তিরা। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহআলী থানায় মামলা করেন। এতে মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০/২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































