Apan Desh | আপন দেশ

মাছ-মুরগিতে স্বস্তি ফিরলেও কাঁচাবাজারে অস্বস্তি

মাছ-মুরগিতে স্বস্তি ফিরলেও কাঁচাবাজারে অস্বস্তি

প্রকাশিত: ১২:২২, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাছ-মুরগিতে স্বস্তি ফিরলেও কাঁচাবাজারে অস্বস্তি

ছবি: আপন দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটসহ নানা সংকট সঙ্গী করেই সরকার পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে বর্তমান সরকার। একের পর এক সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই নিত্যপণ্যের দামে ওঠানামা করছে। কখনো কোনো পণ্যের দাম কমছে, আবার কিছুদিনের মধ্যেই তা বেড়ে যাচ্ছে।  

নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাজারে। বিশেষ করে কাঁচাবাজারে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে সবজির দাম। প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। সীমিত আয়ের সঙ্গে বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেও হিমশিম খাচ্ছেন তারা। 

তবে মাছের দাম কিছুটা কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে তেলাপিয়ার দাম কেজিতে ৮০ টাকা। পাঙাশের দাম কমেছে ৩০ টাকা, মাঝারি রুই ও পাবদার দামও কমেছে। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১৫ টাকা কমেছে। তবে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাছ-মুরগির দাম কমলেও বেড়েছে ডিমের দাম। ডিমের দাম ডজনে সর্বোচ্চ ৫ টাকা বেড়েছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে।

এদিন রাজধানীর কমলাপুর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, লম্বা বেগুনের দাম বাজারভেদে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এ ধরনের বেগুন ৯০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। করলার দাম কিছুদিন আগে কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছিল। এখন মানভেদে তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের পটোল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। 

ঝিঙা, ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা আল আমিন বলেন, আমরা বাড়তি দামে কিনলে, দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হয়। এখন পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে। তাই কিছু সবজির দাম বেড়েছে। তবে সব পণ্যের দাম একসঙ্গে বাড়েনি।

বাজার করতে আসা মাহমুদুল বলেন, বাজারে এসে দেখছি প্রায় প্রতিটি সবজির দামই আগের তুলনায় বেড়েছে। প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ সবজি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তেলের বাড়লে তার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় মধ্যবিত্তদের।

তবে মাছের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। কিছু মাছের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজ তা কমে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহে কেজিতে দাম কমেছে ৩০ টাকা। তেলাপিয়ার দাম গত সপ্তাহের ২৬০ টাকা থেকে কমে আজ ১৮০ টাকা হয়েছে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে তেলাপিয়ার দাম কমেছে ৮০ টাকা।

আরও পড়ুন<<>>ছুটির দিনে দেশে যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

মাঝারি আকারের রুই মাছও গত সপ্তাহের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে মাঝারি রুইয়ের দাম ছিল ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। এদিন একই মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের তুলনায় কেজিতে ৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দামের তুলনায় ১১০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। পাবদার দামও গত সপ্তাহের ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা থেকে কমে ৩০০ টাকা কেজিতে নেমেছে। আজকের বাজারে কই মাছ ২০০ টাকা এবং সিলভার মাছ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের দাম হাজার টাকার বেশি।

ইলিশের দাম অবশ্য কেজিতে প্রায় ৩০০ টাকা কমেছে। আগে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়া ইলিশ এখন ১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ১ হাজার ৬০০ টাকার ইলিশের দাম কমে হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা। সব আকারের ইলিশের দামই কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ তা কমে ১৭৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ কেজিতে দাম কমেছে ১৫ টাকা। হাইব্রিড সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ মুরগির দাম ছিল ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি।

অন্যদিকে গরুর মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত সপ্তাহের মতো আজও প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ডিমের আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজন এবং ব্রাউন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হয়েছিল। এদিন ব্রয়লার সাদা ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪০ টাকা ডজন। তবে ব্রাউন ডিমের দাম বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ডজন হয়েছে। অর্থাৎ ডজনপ্রতি ব্রাউন ডিমের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দামে ৫ টাকা করে বেড়েছে।

ডিম বিক্রেতা মো. রাজু মিয়া বলেন, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিম পাড়া ও ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি মুরগির খাবারের দামও বেড়েছে। তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে। সব মিলিয়ে ডিমের দাম কমার সম্ভাবনা নেই, বরং সামনে আরও বাড়তে পারে।

এছাড়া বেড়েছে পাস্তুরিত তরল দুধের দাম। সম্প্রতি কয়েকটি বেসরকারি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা বাড়িয়েছিল। এরপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও দাম বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে আটা ও ময়দার দামও আগের তুলনায় বেশি। দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো আটা-ময়দার দাম বাড়িয়েছে।

এদিকে বাজারে পণ্যমূল্য সহনীয় ও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে কাজ করছে সরকারের পাঁচটি সংস্থা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, খাদ্য অধিপ্তরের তদারকি সেল, কৃষি বিপণন অধিদফতর এবং সিটি করপোরেশন। এসব সংস্থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাঠ প্রশাসন সহায়তা দিয়ে থাকে। সংস্থাগুলোর দাবি-শুধু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর নয়, বছরের পুরোটা সময় বিভিন্ন আঙ্গিকে তারা রাজধানীসহ সারা দেশে বাজার তদারকি চলমান রেখেছে। 

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়