ছবি সংগৃহীত
জনসংখ্যায় বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে এবারের আসরে জায়গা করে ক্যারিবিয়ান সাগরের ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ কুরাসাও। ফুটবলে রূপকথার গল্প লিখে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা নবাগত ‘সেভেন আপ’ খাইয়ে বরণ করল জার্মানি। বাংলাদেশ সময় সোমবার (১৫ জুন) ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সর্বশেষ দুই আসরে গ্রুপ পর্বে বিদায় নেয়া জার্মানি ই- গ্রুপে ফেবারিট। কিন্তু আগের ব্যর্থতার গ্লানিতে এবার তাদের লক্ষ্য ছিল নিজেদের প্রমাণের। সেটাই তারা করে দেখালো গ্রুপ ওপেনারে।
মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়াটাই যেখানে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উৎসব, সেখানে একটা গোল কী করতে পারে! সেটাও যদি হয় চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির জালে! কাই হাভার্টজদের সাত গোলও যেটা করতে পারেনি, কুরাসাওয়ের লিভানো কোমেনেনসিয়া সেটা করতে পেরেছেন মাত্র এক গোলেই। তেমন কিছু না আসলে, থেকে ১০০ বছর পরও যখন কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপে খেলার প্রসঙ্গে উঠবে, গল্প হবে প্রথম গোলটি করেছেন কে—তখন কোমেননসিয়ার নামটা উচ্চারিত হবে। অমরত্ব আরকি!
এদিন শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা জার্মানি ষষ্ঠ মিনিটে ফেলিক্স এনমেচার গোলে এগিয়ে যায়। দুর্দান্ত সে গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন ফ্লোরিয়ান ভির্টজ। শুরুর গোলের আগে মুসিয়ালার শট ব্লকড করেছিলেন কুরাসাও গোলকিপার। তার পর ভির্টচের ছোট পাস পথে পড়লে ডান প্রান্তে দর্শনীয় শটে জাল কাঁপান এনমেচা। তাতে কীর্তিও গড়েছেন তিনি। বিশ্বকাপ অভিষেকে গোলের দেখা পেয়েছেন। সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপে অভিষেকে গোলের কীর্তি গড়েছিলেন ম্যাটস হামেলস।
প্রথম গোলের পর থেকে বার বার আক্রমণ শাণিয়ে গেছে জার্মানি। ফলে শুরুর দিকে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে ছোট্ট দেশটিকে। তবে ২১ মিনিটে একটি গোল শোধ দিয়ে জার্মানিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল ৭২ ধাপ পিছিয়ে থাকা কুরাসাও। গোলটি এসেছে দারুণ আক্রমণ থেকে। প্রথমে লোকাদিয়ার শট রুখে দেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার। তখন বলটি গিয়ে পড়ে কোমেনেনসিয়ার কাছে। বাঁ পায়ের জোরালো শটটি কিমিচের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ম্যানুয়েল নয়্যারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। যার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম গোলের দেখা পায় কুরাসাও। তাতে স্কোর লাইনে চলে আসে সমতাও (১-১)!
আরও পড়ুন<<>>অভিষেক ম্যাচেই জার্মানির জাল কাঁপাল কুরাসাও
২১ মিনিটে গোল হজমের পর ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল জার্মানরা। ৩৮ মিনিটে আবারও ম্যাচে ফেরে শ্লটারবেকের দুর্দান্ত এক হেডে। শুরুতে ব্রাউন কর্নার করেছিলেন। তার পর আনমার্কড শ্লটারবেক হেড করে জালে পাঠান বল। তাতে স্কোর লাইন দাঁড়ায় ২-১।
বিরতিতে যাওয়ার আগে ৪৫+৩ মিনিটে স্কোর ৩-১ করে ফেলে জার্মানি। বক্সে মিডফিল্ডার এনমেচাকে ফেলে দেন কুরাসাওর একজন খেলোয়াড়। তাতে পেনাল্টি মেলে জার্মানির। স্পট কিক থেকে গোল করে তাদের ৩-১ গোলে এগিয়ে দেন হাভার্টজ।
বিরতির পর তো ছুটেছে জার্মান যন্ত্র। তাদের নিয়ে বিখ্যাত যে উক্তি, ‘ফুটবলে ২২ জন বল নিয়ে ৯০ মিনিট ছোটে। শেষ পর্যন্ত জেতে জার্মানি’- সেই কথার আক্ষরিক প্রমাণ মিলেছে দ্বিতীয়ার্ধে। গোলের তুবড়ি ছুটেছে একের পর এক। এই অর্ধে শুরুতে গোলের নেপথ্যে ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের দুই সতীর্থ। ৪৭ মিনিটে দারুণ এক পাসে বলটি ডান দিক দিয়ে বক্সে বাড়িয়ে দেন জশুয়া কিমিচ। সেখানে বল পেয়ে বাঁম প্রান্ত লক্ষ্য করে শট নেন মুসিয়ালা।
৬৮ মিনিটে জার্মানির আরেকটি দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে আসে পঞ্চম গোল। উনদাভের নিখুঁত ছোট্ট ফ্লিক পাস গিয়ে পৌঁছায় ব্রাউনের সামনে। সুযোগ হাতছাড়া না করে জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি।
৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে স্কোরলাইন ৬-১ করেন উনদাভ। হাভার্টজের পাস থেকে কিমিচ বল বাড়িয়ে দেন উনদাভের দিকে। তার নেয়া শটটি খুব একটা নিখুঁত ছিল না, তবে লিয়ান্দ্রো বাকুনার গায়ে সামান্য ছোঁয়া লেগে বল জালে ঢুকে যায়।
তার পর ৮৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যান হাভার্টজ। উনদাভের চমৎকার থ্রু বল ধরে আর্সেনাল ফরোয়ার্ড বক্সে ঢুকে পড়েন এবং অসাধারণ দক্ষতায় গোলরক্ষক রুমের মাথার ওপর দিয়ে বল চিপ করে পাঠান জালে। তাতে প্রথমার্ধে ৩ গোল করা জার্মানি এ অর্ধে পেয়েছে ৪ গোল! এটি ছিল ব্রাজিলের বিপক্ষে ২০১৪ বিশ্বেকাপের সেমিফাইনালের পর জার্মানির বড় জয়।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































