ফাইল ছবি, আপন দেশ
দুর্বল পাঁচ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে রোববার (০৯ আগস্ট) চারটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হবে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) চুক্তি বাতিল করা হবে। সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।
তবে আইনি জটিলতার কারণে প্রথম ধাপে পিপলস লিজিংয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির এ সংক্রান্ত মামলায় আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হবে।
আরও পড়ুন<<>>সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
গত বছরের মে মাসে আমানত ফেরতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব পর্যালোচনা করে প্রথম ধাপে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়। পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং চারটিকে পুনরুদ্ধারের জন্য তিন মাস সময় দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হলে সেগুলোকেও রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় নেয়া হবে।
পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রথম ধাপে চারটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হবে। তবে নয়টি প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। তিন মাস সময় পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় চলে যাবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে শিগগিরই প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হবে। পিপলস লিজিংয়ের আইনি জটিলতাও দ্রুত নিষ্পত্তির আশা করা হচ্ছে।
খেলাপি ঋণ প্রায় শতভাগ
বন্ধের সিদ্ধান্ত হওয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। গত ডিসেম্বরের শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯.৯৯ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩ শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল করপোরেট সুশাসন এবং আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রভাবেই এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণমানের অবনতি হয়েছে। পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ প্রতিষ্ঠানে মোট আমানত রয়েছে ১৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সে ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি, পিপলস লিজিংয়ে ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ পরিশোধ করা হবে। একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
বর্তমান আইনে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নে গেলে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পান। এরপর ঋণ আদায় ও সম্পদ বিক্রির অর্থ থেকে আনুপাতিক হারে পাওনা পরিশোধ করা হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্যদিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাওয়া চার প্রতিষ্ঠানে মোট আমানত রয়েছে ২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সে ৯৭৬ কোটি, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে ৬৩৫ কোটি, বিআইএফসিতে ৫৪০ কোটি এবং জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে ২৬০ কোটি টাকা রয়েছে।
আপনদেশ/মিম/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































